হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় দীর্ঘ অনাবৃষ্টিতে শুকিয়ে চৌচির হয়ে পড়ছে আমন ধানের খেত। কোথাও কোথাও জমিতে দেখা দিয়েছে ফাটল। এর মধ্যে ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। কিছু জমির ধান ইতিমধ্যে কাইচ থোড় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পানির সংকট ও পোকার আক্রমণে ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নেই কমবেশি আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে করাব, মুড়াকরি, বামৈ ও মুড়িয়াউক ইউনিয়নে আবাদ বেশি। অনাবৃষ্টির কারণে জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকেরা। তাদের আশঙ্কা, এ সময়ে পর্যাপ্ত পানি ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা না গেলে ধানের ফলন ব্যাহত হতে পারে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লাখাইয়ে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। তবে লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। অর্থাৎ, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় দুই হাজার হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে। হুসেনপুর গ্রামের কৃষক সবুজ মিয়া বলেন, বৃষ্টি না হওয়ায় জমির মাটি শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেছে। ধানের গাছ ঠিকমতো বেড়ে উঠছে না। এখন জমিতে পানি দিতে না পারলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সেচ দিতে গেলেও বাড়তি খরচ হচ্ছে। এর মধ্যে পোকার আক্রমণ বাড়লে লোকসানের আশঙ্কাও বাড়বে। করাব গ্রামের কৃষক ভিংরাজ মিয়া বলেন, আমন ধানের ওপর নির্ভর করেই আমরা সারা বছরের খরচের হিসাব করি। এবার বেশি জমিতে ধান চাষ করেছি। কিন্তু দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছি।
একদিকে সেচের খরচ, অন্যদিকে ধানে পোকার আক্রমণ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠছে। অনাবৃষ্টির পাশাপাশি ধানে মাজরা পোকার আক্রমণ বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা। মাজরা পোকার কীড়া ধানের কাণ্ডের ভেতরে ঢুকে ক্ষতি করে। এতে আক্রান্ত গাছের শিষ সাদা হয়ে যেতে পারে এবং ধান উৎপাদন ব্যাহত হয়।
কৃষক গোপাল চন্দ্র দেব বলেন, ধানের খেত বাঁচাতে এখন সেচের পাশাপাশি পোকামাকড়ের দিকেও নজর রাখতে হচ্ছে। পানির সংকট থাকলে ধানের পরিচর্যা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার পোকার আক্রমণ ঠেকাতে বাড়তি খরচ করতে হয়। এ অবস্থায় কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
লাখাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহেদুল ইসলাম বলেন, আমরা বিদ্যুৎ অফিসকে অনুরোধ করছি, যেসব এলাকায় সেচপাম্প রয়েছে, সেসব এলাকার কৃষকেরা বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করলে যেন দ্রুত সংযোগ দেওয়া হয়।
কৃষকদের দাবি, সেচের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে ধানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও মাজরা পোকার আক্রমণ দমনে কার্যকর পরামর্শ দিতে হবে। বিশেষ করে ধান কাইচ থোড় পর্যায়ে থাকা জমিগুলোতে পানির সংকট দেখা দিলে কৃষকের উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে।
সময় মতো সেচ ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যা নিশ্চিত না হলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ফলনহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

