স্বাধীন ও গণমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে গণমাধ্যমে স্বার্থান্বেষী মহলের নিয়ন্ত্রণ কমাতে হবে। একই সাথে প্রেস কাউন্সিলকে ঢেলে সাজানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। রোববার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) 'গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য সংলাপ: গণমাধ্যম প্রসঙ্গ' শীর্ষক সংলাপে এসব কথা বলেন বক্তারা।
বিভিন্ন কর্পোরেট গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকায় অনেক পত্রপত্রিকা ও গণমাধ্যম স্বাধীন সাংবাদিকতা করতে পারছেনা মন্তব্য করে তারা বলেন এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরী । অন্যথায় রাতারাতি গণমাধ্যমের চরিত্র বদলাবে না। এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের অধিকারের পাশাপাশি ওয়েজবোর্ড ও বেতন-ভাতাসহ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। প্রেস কাউন্সিল ঢেলে সাজাতে হবে।
দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সংস্কার কমিশনগুলো নানা সংস্কারের সুপারিশ করছে। কিন্তু রাজনৈতিক সরকার এসে সেগুলো বাস্তবায়ন না করলে কোনো লাভ হবে না। আর লক্ষ্যহীনভাবে সংস্কার করতে চাইলে কোনো কাজে আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গত ১৫ বছর দেশের গণমাধ্যম চাপের মুখে ছিল। তারা জনগণের কথা বলতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, সাংবাদিকদের নিজেদেরও আত্মসমালোচনা করতে হবে। আয়নার সামনে দাঁড়াতে হবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো গণমাধ্যম তুলে ধরতে পারেনি।
সংলাপে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অধিকার এবং জবাবদিহিতা কিভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছে সংস্কার কমিশন। এসব বিষয়ে অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে প্রতিবেদন বা সুপারিশ তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।
দৈনিক সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান বলেন, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট কালাকানুন বাতিল করতে হবে। নির্বাচিত সরকার আসলে কালাকানুন বাতিল হবে কি না তা সন্দেহ আছে। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের আইসিটি আইন বাতিল করা উচিত।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার ও আত্মমর্যাদা নিশ্চিত করা ছাড়া সাহসী সাংবাদিক গড়ে উঠবে না। একমাত্র সাহসী সাংবাদিকরাই পারেন দেশে দুর্নীতি ও অন্যায়-অনিয়ম দূর করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে ।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এম এ আজিজ বলেন, গণমাধ্যম স্বাধীন হওয়ার আগে গণতন্ত্র দরকার। তিনি বলেন, দ্বিধাবিভক্ত সাংবাদিক ইউনিয়ন দিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার আদায় করা সম্ভব নয়।
সংলাপের সঞ্চালক সিজিএস'র নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমান বলেন, গণতন্ত্র হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম সহযোগী ভূমিকা পালন করেছে। গণমাধ্যমে কিভাবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণ দূর করা যায় সে বিষয়ে গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরী বলে অভিমত দেন তিনি। সিজিএস'র চেয়ারপারসন মুনিরা খানের সভাপতিত্বে সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. এসএম শামীম রেজা, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামাল, পারভীন এফ চৌধুরী, জায়মা ইসলাম, ডিজিটাল রাইট বিডি'র প্রতিষ্ঠাতা মিরাজ আহমেদ চৌধুরী, এএফপির ফ্যাক্ট চেকার কদরুদ্দীন শিশির, নাগরিক কমিটির সদস্য তুহিন খান প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

