আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জাতি স্মরণ করবে বীর শহীদদের আত্মদান

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

বিশেষ প্রতিনিধি

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

আজ ২৬ মার্চ। ৫৬তম মহান স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে শুরু হয়েছিল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াই, চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে যার সমাপ্তি ঘটে একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর। জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। স্বাধীনতার এই দিনে জাতি বীর শহীদদের আত্মদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

এবার ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশে জাতি পালন করছে তার গৌরবময় জাতীয় দিবসটি। মানুষ স্বাধীনভাবে স্বাধীনতা দিবস পালনের সুযোগ পাচ্ছে। দিবসটি পালনে সরকারিভাবে বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণী দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

কারচুপি, একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচন, রাতের ভোট ও তথাকথিত আমি-ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা টানা সাড়ে ১৫ বছর দেশ শাসন করেছেন। এ সময় রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করার পাশাপাশি দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে নিজেদের মতো করে প্রচার করা হয়। নিজেদের স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করা হয়। শেখ মুজিব ও হাসিনা বন্দনাই প্রাধান্য পেত জাতীয় দিবসগুলোর অনুষ্ঠানে। সে সময়ে স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানকে বিভিন্নভাবে খাটো করা হয়। স্বাধীনতাযুদ্ধের অগ্রভাগের সৈনিক এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বলেও আখ্যায়িত করা হয়। ‍মুক্তিবাহিনীর প্রথম সামরিক ব্রিগেড ‘জেড ফোর্সের’ প্রধান জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় খেতাব ‘বীর উত্তম’ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়। বাতিল করা হয় তার পাওয়া স্বাধীনতা পদকও।

ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলের সাড়ে ১৫ বছরে দেশের মানুষ স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস কোনোটাই স্বাধীনভাবে পালন করতে পারেনি। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশে নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। এর দেড় বছরের মাথায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়। এর ফলে দেড় যুগের মাথায় দেশবাসী সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশে স্বাধীনতা দিবস পালন করছে।

রাষ্ট্রপতির বাণী

স্বাধীনতা দিবসের বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ইনসাফভিত্তিক, স্বনির্ভর ও নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দল-মত-পথ নির্বিশেষে দেশবাসীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমসহ সব বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিত মা-বোন, মুক্তিযুদ্ধের জাতীয় নেতা, সংগঠকসহ স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদান রাখা সবাইকে স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পরিস্থিতির বিরূপ প্রভাব দেশ ও দশের ওপর পড়ছে। সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে একটি স্বনির্ভর, গতিশীল ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে চলেছে।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে। স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সে লক্ষ্য সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারা আরো বেগবান করতে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।

কর্মসূচি

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ ঢাকাসহ সারা দেশে প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। পরে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এছাড়া বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আজ সকাল ৯টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠিত হবে। প্যারেড স্কয়ারের কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এছাড়া জেলা ও উপজেলার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং ঢাকা শহরে সহজে দৃশ্যমান ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হয়েছে। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে সশস্ত্র বাহিনীর অর্কেস্ট্রা দলের পাশাপাশি সংগীত পরিবেশন করবে জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ওয়ারফেজ’। অনুষ্ঠানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গতকাল বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি ১০ টাকা মূল্যমানের উদ্বোধনী খাম, পাঁচ টাকা মূল্যমানের ডেটাকার্ড এবং বিশেষ সিলমোহর উদ্বোধন করেন।

দিবসটি উপলক্ষে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পৃথক কর্মসূচি পালন করছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছেÑজাতীয় পতাকা উত্তোলন, শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, রক্তদান ইত্যাদি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন