জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, আজকে আমাদের বড় অর্জন হল বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান জেনেছি পারস্পরিক আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে দলগুলো আগ্রহ দেখিয়েছে।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শেষে তিনি এই কথা বলেন।
আলী রীয়াজ বলেন, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসির) আলোচনা করতে গিয়ে দেখেছি-রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানের দিক থেকে এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো যেগুলো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ দিবে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক দলগুলো অনুভব করে কিনা। তাদের দিক থেকে সেই তাগিদ আছে। দুই একটি দল থেকে নীতিগত মতপার্থক্য থাকলেও অধিকাংশ রাজনৈতিক দল মনে করে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান থাকা দরকার। আবার বেশ কয়েকটি দল এ বিষয়ে একমত হননি।
এনসিসির নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার কমিশন জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) নাম প্রস্তাব করেছিলো। কেউ কেউ এই নাম পরিবর্তনের কথা বলেছে। আমরা বলেছি লক্ষ অর্জনের জন্য নাম পরিবর্তন কোন বিষয় না। আমরা বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি এ ধরনের প্রতিষ্ঠান তৈরি করা যায়। আলোচনাটি খানিকটা অগ্রগতি হয়েছে এই আলোচনাটি আগামী সপ্তাহে পর্যন্ত আমরা রাখবো।
'দ্বিতীয় যে বিষয় নিয়ে আলোচনা সেটি হলো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন৷ আমাদের থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দুইটি প্রস্তাব আছে। প্রথম একটি হলো ইলেক্টোরাল পদ্ধতিতে নির্বাচন করার কথা বলেছে'।
আলী রীয়াজ বলেন, তার মধ্যে সবাই বলেছে বর্তমান যে বিধান রয়েছে সেটা পরিবর্তন দরকার আছে কিনা-দ্বিতীয় প্রশ্ন উঠেছে রাষ্ট্রপতির আরো ক্ষমতা দেওয়া ও ক্ষমতা ভারসাম্য করার জন্য আমাদের বিবেচনা করা উচিত কিনা। দুটো বিষয়ে আলোচনা চলছে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আমরা বলেছি ঐকমত্য কমিশন ও সংবিধান সংস্কার কমিশন এ বিষয়ে আলোচনা করে পরবর্তী আলোচনায় নিয়ে আসবো।
জেলা কাউন্সিল নির্বাচন নিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, জেলা সমন্বয় কাউন্সিল নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয়নি। কেউ কেউ বলেছেন এটার প্রয়োজন আছে কিনা। এটা নিয়ে আলোচনা হয়নি।
তিনি আরো বলেন, আমরা আগামীকাল বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করবো। এনসিসি ও তার আগে যেসব অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করব৷
কাউন্সিলের জবাবদিহিতা কিভাবে নিশ্চিত হবে এমন প্রশ্ন তিনি বলেন, যেভাবে প্রস্তাব করা হয়েছিল তার প্রধান বিচারপ্রতিবাদে প্রত্যেকটি সদস্য নির্বাচিত প্রতিনিধি। যাদের হাতে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের কাছে জবাবদিহি থাকবে। আমরা সবাই যদি এই প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে একমত হয় তাহলে এই জবাবদিহিতা কাঠামোগতভাবে করা সম্ভব।
সংলাপে দুইটি ওয়াকআউটের বিষয়ে তিনি বলেন, যে কোন আলোচনায় সৌহার্দ্যপূর্ণ থাকবে ও ভিন্ন মত থাকবে। এতগুলো রাজনৈতিক দল ক্ষোভ বিক্ষোভ থাকবেই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সকল রাজনৈতিকদল সহযোগিতা করছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

