চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল

অর্ণবের তাণ্ডবে ভারতে পাঁচজনের মৃত্যু, চার রাজ্যে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

অর্ণবের তাণ্ডবে ভারতে পাঁচজনের মৃত্যু, চার রাজ্যে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা
প্রতীকী ছবি

অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ -এর আঘাতে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে পৃথক দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি, গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়া এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। এদিকে টানা বৃষ্টিতে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওডিশা, ছত্তিশগড় ও তেলেঙ্গানার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সতর্কতা জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)। অন্যদিকে, বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়টির সরাসরি প্রভাবের আশঙ্কা কম থাকলেও আগামী দুই দিন বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের বুধবারের বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি বুধবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশ ও পুদুচেরির ইয়ানাম উপকূল অতিক্রম করে। সকাল ৮টার মধ্যে এর কেন্দ্র পুরোপুরি স্থলভাগে প্রবেশ করে। উপকূল অতিক্রমের সময় ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের একটানা গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার; দমকা হাওয়ার গতি উঠেছিল ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত। পরে এটি ‘অতি প্রবল’ থেকে ‘প্রবল’ ঘূর্ণিঝড়ে দুর্বল হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় গণমাধ্যম এনটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝড়ের সময় গাছ ভেঙে পড়া ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার মতো পৃথক দুর্ঘটনায় অন্ধ্রপ্রদেশে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বিশাখাপত্তনম, আনারাপল্লি, কাকীনাডা, কোনাসীমা এবং পশ্চিম গোদাবরী এলাকায়। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছিলেন।

অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশা রাজ্যের এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে উপকূলবর্তী এলাকা থেকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাজ্য দুটির অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সেবা ভেঙে পড়েছে; অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকায় বহু গাছ ভেঙে পড়েছে। অর্ণবের কারণে বেশ কয়েকটি বিমান চলাচলের শিডিউল বাতিল করা হয়েছে; বন্ধ রয়েছে স্কুলসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। প্রভাব পড়েছে ট্রেন চলাচলেও। আনাকাপল্লি, বিশাখাপত্তনম, কাকীনাডা ও কোনাসীমা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হয়। শুধু অন্ধ্র নয়, ওডিশার গোপালপুর, পুরীসহ বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি এবং ঝড়ের তাণ্ডব চলে।

আইএমডি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিতে মাটিতে পানি জমে দ্রুত প্রবাহ সৃষ্টি হতে পারে। এতে নদী অববাহিকা, পাহাড়ঘেঁষা এলাকা ও নিচু জনপদে আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি রয়েছে। সতর্কতার সময়সীমা বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অর্ণব স্থলভাগে উঠে গেলেও এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক আমার দেশকে বলেন, ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার উপকূলীয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে। আগামী শনিবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসতে পারে। সেই সঙ্গে উত্তরী বায়ুর প্রভাবে তাপমাত্রাও কমতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন