তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সরকারের সমালোচনা সবাই করতে পারে। সরকারের বিরুদ্ধে বলার অধিকার আছে। সরকারের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ তৈরি করলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে না। কিন্তু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ তৈরি করা হলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের বিষয়ে আমরা কাজ করছি। এ লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনটি কীভাবে আরো কার্যকর ও শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বিগত ফ্যাসিবাদের সময়ে নিজেও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সাইবার বুলিংয়ে আমাকেও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই আইন কোনো দল বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে করা হচ্ছে না। সরকারের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ তৈরি বন্ধ করার জন্যও হচ্ছে না। কিন্তু দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ তৈরি করা হলে, তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশকে বেটার করার জন্য আইন করা হচ্ছে। নারী ও শিশুদের সুরক্ষা দিতে নতুন আইন করা হচ্ছে। যদিও আইন করে সব সমস্যার সমাধান করা যায় না। তাই নৈতিক শিক্ষা নিয়েও সরকার কাজ করছে। নৈতিক অবক্ষয়রোধে আইনের প্রয়োগ করার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। যদি জেনে অপতথ্যে লাইক, কমেন্ট করে তাহলে আইনের আওতায় আসবে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সময়ে খেলার কোনো মাঠ নেই। এজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ এবং প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম তৈরি করা হবে। এখনকার সময়ের ছেলে-মেয়েরা বন্দী অবস্থায় থাকে। তাদেরকে খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান সভাপতির বক্তব্যে বলেন, আজকের সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অপতথ্য ও গুজবের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে না পারলে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার প্রতিরোধ সম্ভব নয়।
তিনি আরো বলেন, সচেতনতাই প্রধান কার্যক্রম হিসেবে রাখতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহের একদিন বিভ্রান্তকর তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এ সময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, বিভ্রান্তকর তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক উম্মে হাবীবা মীরা।
এসময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, সাংবাদিক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

