জাপানের পূর্বাঞ্চলে ‘নজিরবিহীন’ ভারী বৃষ্টিপাতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নারিতা বিমানবন্দরে আটকা পড়েন হাজার হাজার মানুষ । সড়ক ও রেল যোগাযোগও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চিবা এলাকায় প্রায় ২৬ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর।
বৃহস্পতিবার রাতে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চিবা অঞ্চলের জন্য প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ মাত্রার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।
চিবা প্রিফেকচারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৬০ বা ৭০ বছর বয়সী এক পুরুষ ব্যক্তি রয়েছেন। তাকে প্লাবিত সড়কের পানিতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ছাড়া ৬৬ বছর বয়সী এক নারী পানিতে ডুবে যাওয়া গাড়ির ভেতর আটকা পড়ে মারা যান।
ইচিকাওয়া, কাশিওয়া ও সাকুরাসহ বিভিন্ন শহরে মোট ৪৫টি বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। আরও ৩৯টি বাড়ির মেঝের নিচ দিয়ে পানি ঢুকে পড়েছে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
টোকিওর দুটি প্রধান বিমানবন্দরের একটি নারিতায় প্রায় সাত হাজার মানুষ রাতভর আটকা ছিলেন। চিবা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর জানিয়েছে, বিমানবন্দরমুখী ও বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া অনেক ট্রেন শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বাতিল করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে জানান, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আটকে পড়া যাত্রীদের বিনা মূল্যে পানি, খাবার ও ঘুমানোর ব্যাগ দিয়েছে।
এনএইচকেকে এক আটকে পড়া যাত্রী বলেন, ‘কখনো ভাবিনি বিমানবন্দরে রাত কাটাতে হবে। তবে পরিস্থিতি যেমন, তেমনই মেনে নিতে হচ্ছে এবং আমরা এখান থেকে শিখছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই ভ্রমণের কথা আমরা কখনো ভুলব না।’
ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় চিবা স্টেশনেও শত শত মানুষ আটকা পড়েন।
এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় শত শত মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটিয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি/বাসস
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


