ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ লোক নিয়ে রাস্তায় নামবেন আফ্রিদি

ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ লোক নিয়ে রাস্তায় নামবেন আফ্রিদি
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। ফাইল ছবি

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ লোক নিয়ে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার আদিয়ালা কারাগারের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

আফ্রিদি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইমরানের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেওয়া না হলে ২৭ সেপ্টেম্বর ২০ লাখ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ইসলামাবাদের দিকে পদযাত্রা করা হবে।

আফ্রিদি বলেন, ‘২৭ সেপ্টেম্বরের আগে আমি শেষবারের মতো আদিয়ালায় এসেছি। সরকার নিজে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেই কেবল আমি আবার ফিরে আসব।’

ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে চাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় গতকাল আফ্রিদির নামও ছিল। তবে কারাগারের পরিস্থিতি দেখে তার মনে হয়েছে, ইমরানের সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা কর্তৃপক্ষের নেই।

দেশজুড়ে সড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি

বৈঠকের অনুমতি না দিলে পিটিআইয়ের ‘ডি-চক’ প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে দেশজুড়ে সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেন আফ্রিদি।

দলীয় কর্মীদের জাতীয় ও পিটিআইয়ের পতাকা হাতে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিতে বলেন তিনি।

আফ্রিদির ভাষ্য, এই প্রতিবাদের মাধ্যমে জানানো হবে যে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতার সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না।

পিটিআইয়ের গণমাধ্যম শাখার তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন শহরে এরই মধ্যে প্রতিবাদ কর্মসূচি হয়েছে। দলীয় কর্মীরা বিভিন্ন মোড়ে গিয়ে ইমরানের পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন।

আফ্রিদি বলেন, পিটিআইয়ের অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের আন্দোলন শুরু হবে। আগামী রোববার বান্নুতে রাজপথে একটি কর্মসূচি আয়োজনের কথাও জানান তিনি।

‘২৭ সেপ্টেম্বর ‘দুঃস্বপ্ন’ হবে’

২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে ২০ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেবে বলে দাবি করেছেন আফ্রিদি।

তিনি বলেন, এই তারিখটি কর্তৃপক্ষের জন্য একটি ‘দুঃস্বপ্ন’ হয়ে উঠবে।

পিটিআইয়ের এই নেতা বলেন, মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে।

বুধবার স্বল্প সময়ের নোটিশে খাইবার জেলায় বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

আফ্রিদি বলেন, পাকিস্তান ও পিটিআইয়ের পতাকা বহনকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকেই ইমরান খানের সমর্থক হিসেবে গণ্য করা হবে।

তিনি আরো বলেন, পাকিস্তানের জনগণ তাদের সমস্যার সমাধান চায়।

তার দাবি, কেবল ইমরান খানই এসব সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করতে পারেন।

আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ

পিটিআইয়ের ধারাবাহিক প্রতিবাদ এবং ইমরানের সঙ্গে দেখা করার দাবির মধ্যেই আফ্রিদির এই হুঁশিয়ারি এল।

গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদ হাইকোর্ট পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে এবং গতকাল দলীয় নেতাদের সঙ্গে ইমরানের বৈঠকের ব্যবস্থা করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তবে আফ্রিদির দাবি, গত কয়েক মাস ধরে এ ধরনের আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হয়নি।

রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তিনজন বিচারকের আদেশ রয়েছে, যাতে সপ্তাহে দুবার ইমরানের সঙ্গে বৈঠকের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই আদেশ কার্যকর করা হচ্ছে না।

আফ্রিদি বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য আদালতে আবেদন করেছি, কিন্তু আদালত অসহায়। সে ক্ষেত্রে প্রতিবাদ জানানোর সব অধিকার আমাদের রয়েছে।’

‘সরকারি দপ্তর অকার্যকর’

আফ্রিদি দাবি করেন, এমনকি সরকারের মন্ত্রীরাও স্বীকার করছেন যে দেশ ও এর শাসনব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

তার মতে, এটি সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ।

তিনি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরগুলো বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।

আফ্রিদির ভাষ্য, এসব প্রতিষ্ঠান যদি কার্যকরভাবে কাজই না করে, তাহলে এগুলো চালু রেখে জনগণের অর্থ অপচয় করার কোনো অর্থ নেই।

তিনি বলেন, ‘এমনকি প্রধানমন্ত্রীও বলেছিলেন, তিনি বৈঠকের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আমাকে জানাবেন। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়গুলো যদি অকার্যকরই হয়ে থাকে, তবে সরকারের উচিত সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া। কারণ, এগুলো জনগণের অর্থ অপচয় করছে। সাধারণ মানুষ কর দেয়, আর সেই টাকা এদের পেছনে খরচ হয়।’

আফ্রিদি আরো বলেন, ‘এমনকি মন্ত্রীরাও বলছেন যে ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।’

সূত্র: ডন

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন