সাড়ে ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্ত হয়েছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার। দুই উপদেষ্টা বের হয়ে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীরা তাদেরকে আবার আটকে দেয়। ফলে তারা আবার মাইলস্টোন স্কুলের চলেন যান। বর্তমানে তারা সেখানে অবরুদ্ধ আছেন। মঙ্গলবার সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
দুই উপদেষ্টাকে অবরুদ্ধ করে রেখে মাইলস্টোন ক্যাম্পাসের বাহিরে দিয়াবাড়ি চৌরাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের ভিতরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। রয়েছেন র্যাবের সদস্যরাও।
সরেজমিনে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. সারোয়ারসহ অন্য কর্মকর্তারা।

ডিএমপির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা আমার দেশকে জানান, তাদের কাছে তথ্য রয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে পুঁজি করে উস্কানি দিচ্ছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ক্যাডাররা। বিশেষ করে অপরিচিত ছাত্রলীগ ক্যাডাররা এখানে উপস্থিত রয়েছে। দিয়া বাড়ি চৌরাস্তায় উপদেষ্টাদের পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. সারোয়ার জানান, শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাইলস্টোন স্কুলে দুর্ঘটনা কবলিত হায়দার আলী ভবন পরিদর্শনে যান দুই উপদেষ্টা। সেখান থেকে ভবন-৫ এ যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীরা আসিফ নজরুলের পথ রোধ করার চেষ্টা করেন। এরপর তিনি ভবনে পৌঁছালে পরে সেখানে যোগ দেন শিক্ষা উপদেষ্টাও। প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে আসিফ নজরুল এবং সি আর আবরার বের হওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা তাদের ঘেরাও করে রাখে।
দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে ভবনের সামনে হ্যান্ড মাইকে বক্তব্য দেন আসিফ নজরুল। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আসিফ নজরুল বলেন, আপনাদের দাবির সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ একমত। আপনারা যে দাবিগুলো করেছেন তা অত্যন্ত যৌক্তিক। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দিচ্ছি আপনাদের প্রতিটা দাবি পূরণ করব। অভিভাবক হিসেবে আমরা সহানুভূতি জানাতে এখানে ছুটে এসেছি। আপনাদের দাবি মেনে নেব। কোমলমতি যারা প্রাণ হারিয়েছে অবশ্যই তাদের প্রকৃত অবস্থা জানানো হবে। কতজন শহীদ হয়েছে, কতজন আহত হয়েছে প্রকৃত তথ্য জানানো হবে। সব দাবি আমরা মেনে নিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, কনফারেন্স রুমে প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। যে বাহিনী আপনাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে, সরকারের পক্ষ থেকে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি এবং তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসুন, আহত ও নিহতদের পাশে দাঁড়াই।
তবে তার বক্তব্যে আশ্বস্ত না হয়ে শিক্ষার্থীরা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে শুরু করে। এ সময় উপস্থিতিতে ধস্তাধস্তি ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপদেষ্টারা আবারও ভবন-৫ এ ফিরে যান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



