বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চাকুরিচ্যুতদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে চাকরিতে পুনর্বহাল করাসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (ওএন্ডএম) আব্দুল হাকিম ও মো. সালাহউদ্দিন এবং ডিজিএম মো. রাহাত ও মো. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া, সুমাইয়া আক্তারসহ ভুক্তভোগী আরও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আবু সালাম জাবেদ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সারাদেশের গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। এসব সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে দুই দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত সমিতির ২৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিচ্যুত হয়েছেন। সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন ২৫ জন। শাস্তিমূলক বদলি ও স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে কয়েক শ কর্মীকে। এসব তথ্য জানিয়ে আরইবির মাধ্যমে দমন–পীড়ন ও নির্যাতন বন্ধ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, চাকরি পুনর্বহালের দাবি করেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এর আগে মামলা প্রত্যাহার ও চাকরি পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে ৩০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষর নিয়ে গত ২০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন তাঁরা। গত বছরের জানুয়ারি থেকে দুই দফা দাবিতে টানা কর্মবিরতিসহ বিভিন্ন সময় নানা কর্মসূচি পালন করেছেন সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দুই দফার মধ্যে আছে আরইবি ও সমিতি একীভূত করা এবং সমিতির অনিয়মিত কর্মীদের স্থায়ী চাকরিতে নেওয়া। একপর্যায়ে তাঁদের একজনের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে গত অক্টোবরে বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে দেন তাঁরা। এর পর থেকেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলাসহ বিভিন্ন রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে থাকে আরইবি।
লিখিত বক্তব্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, ফেসবুকে মন্তব্য করা নিয়ে গত ২১ জানুয়ারি ভোলা সমিতির দুজন ও পটুয়াখালী সমিতির একজন মিটার রিডারকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
সম্মেলনে তারা অভিযোগ করে বলেন, একই ব্যক্তিদের বিগত সরকারের সময়ে মে মাসে সরকারের উন্নয়নবিরোধী আখ্যা দিয়ে স্ট্যান্ড রিলিজ এবং ওএসডি করা হয়। পরদিন সকাল থেকে পবিস-এর কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার এবং আরও ১৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করা এবং যৌথ বাহিনী দ্বারা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেধড়ক মারধর ও ধরপাকড় করা হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে পবিস-এর কর্মীরা আতঙ্কিত এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় হলে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো ঘটনা ঘটে। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য যা ছিল আরইবির পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। পরবর্তী সময়ে উক্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত কমিটির ওপর আস্থা রেখে পবিস-এর পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সব ধরনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
সম্মেলনে তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, সরকারের সঙ্গে ইতিপূর্বে বর্ণিত সমস্যা সমূহের বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে একাধিকবার আলোচনার চেষ্টা করা হলেও কোন ধরনের আন্তরিকতা পরিলক্ষিত হয়নি। দীর্ঘ ৪৭ বছরের পুরানো মডেল সংস্কারপূর্বক দ্বৈতনীতির অবসান চেয়েছি, সরকারের প্রতি আস্থা রেখে সব ধরনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি তথাপি পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক মামলা, চাকরিচ্যুতি, হয়রারিমূলক বদলিসহ দমন পীড়ন ও নির্যাতন অব্যাহত রাখা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোতে পুনরায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য আরইবির এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতদের চাকরিতে পুনর্বহাল এর জন্য সরকারের নিকট বিনীতভাবে অনুরোধ করছি। এ বিষয়ে গত ২০ জানুয়ারি বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বরাবর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৩০ হাজার কর্মীর গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপি প্রেরণ করা হয়েছে, যার অনুলিপি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও বিদ্যুৎ সচিবকে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান সংকট সমাধানে সাড়ে ৩ মাস পূর্বে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, নিরপেক্ষ এবং টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে অবিলম্বে উক্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য অনুরোধ করছি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

