বিদায়ী ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মানব সম্পদের ক্ষতির পরিমাণ আর্থিক মূল্যে ২১ হাজার ৮৮৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার টাকার মতো বলে জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। তবে সড়ক দুর্ঘটনার অনেক তথ্য অপ্রকাশিত থাকায় ক্ষতির এ হিসাবে আরও ৩০ শতাংশ যোগ করতে হবে বলেও জানিয়েছে বেসরকারি সংগঠনটি।
বুধবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো ২০২৪ সালের সড়ক দুর্ঘটনার বার্ষিক প্রতিবেদনে মানব সম্পদের ক্ষতির এই আর্থিক হিসাব উল্লেখ করা হয়।
ইন্টারন্যাশনাল রোড অ্যাসেসমেন্ট প্রোগ্রাম (আইআরএপি) পদ্ধতি অনুযায়ী হিসাবটি করা হয়েছে জানিয়ে রোড ফেসফি বলেছে, দুর্ঘটনায় যানবাহন বা প্রপার্টি ড্যামেজ হওয়ার তথ্য না পাওয়ায় প্রপার্টি ড্যামেজের আর্থিক পরিমাপ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংস্থার নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে হিসাবটি করা হয়েছে। তবে গণমাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনার যে তথ্য প্রকাশিত হয়, প্রকৃত দুর্ঘটনা তার চেয়ে অনেক বেশি। সেই বিবেচনায় সড়ক দুর্ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ জিডিপির ১ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি হতে পারে।
সড়ক দুর্ঘটনার বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে দেশে ৬৯২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ২৯৪ জন নিহত ও ১২ হাজার ১৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতের মধ্যে ৮৯৩ জন নারী ও ১১৫২টি শিশু রয়েছে। ২৭৬১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৬০৯ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ৩৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৯.৮৫ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১৫৩৫ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২১.০৪ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৯৮৪ জন, অর্থাৎ ১৩.৪৯ শতাংশ। এ ছাড়া গেলো বছরে ১১৮টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৫২ জন নিহত, ১৬১ জন আহত এবং ৩৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ৩৪৭টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৩২৪ জন নিহত এবং ২৭৭ জন আহত হয়েছেন।
নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২৬০৯ জন, বাস যাত্রী ৩৬৯ জন, পণ্যবাহী যানবাহনের আরোহী ৪৯৯ জন, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জীপ আরোহী ৩৬৩ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ১৩৯২ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ৩৩১ জন এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা আরোহী ১৯৬ জন। দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ২৩৫৭টি জাতীয় মহাসড়কে, ২৭৩৬টি আঞ্চলিক সড়কে, ৯৭২টি গ্রামীণ সড়কে, ৭৮৪টি শহরের সড়কে এবং অন্যান্য স্থানে ৭৮টি সংঘটিত হয়েছে।
আর দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত ১১ হাজার ৭৯৬টি যানবাহনের মধ্যে বাস ১৪৫৩টি, পণ্যবাহী যানবাহন ৩১৪৫টি, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জীপ ৬৪২টি, মোটরসাইকেল ২৯৭৮টি, থ্রি-হুইলার ২১৮৫টি, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৭৮২টি, বাইসাইকেল-রিকশা ২৯৪টি এবং অজ্ঞাত গাড়ি ৩১৭টি।
এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে, ১৫৮২টি দুর্ঘটনায় ১৮৪০ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম, ৪৩৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৪৩ জন। আর ২০২৪ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে ২৭৬১টি। এতে নিহত হয়েছেন ২৬০৯ জন এবং আহত ১৮৩২ জন। নিহতদের মধ্যে ১৯৬৩ জন (৭৫.২৩%) ১৪ থেকে ৪৫ বছর বয়সী। রাজধানীতে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪৬ জন নিহত এবং ৪৮২ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পথচারী ৫১.৬২ শতাংশ, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ৩৯ শতাংশ এবং বাস, রিকশা, সিএনজি ইত্যাদি যানবাহনের চালক ও আরোহী ৯.৩৪ শতাংশ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

