কারাগারে ভাবলেশহীন দুই সন্তান হত্যাকারী সালেহা

Mahmuda Doly
মাহমুদা ডলি

কারাগারে ভাবলেশহীন দুই সন্তান হত্যাকারী সালেহা

নিজের দুই শিশু সন্তান হত্যাকাণ্ডের আসামি সালেহা বেগম। বন্দি আছেন গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগারে। সেখানে চুপচাপ, ভাবলেশহীন জীবন কাটে তার। কারো সঙ্গে কোনো কথা বলার ইচ্ছেটুকুও নেই। খাবারের প্রতিও নেই কোনো আগ্রহ। কেউ খাবার দিলে খান, না হলে দিন কেটে যায় না খেয়েই।

কারাগার সূত্রে জানা যায়, কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ নিয়মিত সালেহাকে ডাক্তার দেখিয়ে আসছেন। নিজের দুই সন্তানকে যে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন, তাও ভুলে গেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সালেহার (৩০) বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের তাতুয়াকান্দিতে। তার বাবার নাম আরফান মিয়া। স্বামী বাতেন মিয়ার বাসা গাজীপুরের টঙ্গী জামাইবাজার এলাকার আরিচপুরে। গত বছরের ২০ এপ্রিল থেকে কারাগারে আটক রয়েছেন তিনি।

কারা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সালেহার সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ২০১৪ সালে নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্বামী মালয়েশিয়া ছিলেন। সেখানে বেশকিছু দিন থাকার পর দেশে ফিরে টঙ্গীতে মোবাইলের মাধ্যমে বিকাশে লেনদেনের দোকান দেন। এছাড়া তার ট্রাকভাড়া দেওয়ার ব্যবসা আছে। দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে ছেলে ও ছোট মেয়েটাকে সে খুন করেছে। কিন্তু নিজের গর্ভের দুই সন্তানকে নির্মমভাবে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার দিনের কোনো কিছুই তার মনে নেই বলে জানান।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সালেহা মানসিকভাবে অসুস্থ। কারাগারে আসার পর থেকে তাকে তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাকে যদি খেতে বলা হয়, তবেই সে খায়, হাঁটতে বললে হাঁটে। নিজ থেকে কোনো কিছুই তার চাহিদা নেই। পরিবার বলে কিছু রয়েছে বলে তার মাথায়ই নেই। জীবনের কোনো চাহিদা নেই, কোনো কান্নাকাটিও নেই। সব সময় চুপচাপ থাকেন। এমনকি তার পরিবার থেকে কেউ দেখা করলেও তার ভেতরে কোনো ছটফটানি নেই। সব সময় ভাবলেশহীন জীবন পার করছেন সালেহা।

২০২৫ সালের ১৮ এপ্রিল গাজীপুরের টঙ্গীতে নিজের ঘরে মালিহা আক্তার (৬) ও মো. আবদুল্লাহ (৪) নামের দুই সন্তানকে বঁটি দিয়ে সালেহা কুপিয়ে হত্যা করেন বলে জানায় পুলিশ। এরপর ১৯ এপ্রিল তিনি পুলিশের কাছে দুই সন্তান হত্যার কথা স্বীকার করেন। তবে কেন বা কী কারণে হত্যা করেছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি।

আদালতের নথিপত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গীর আরিচপুরের যে বাড়িতে সালেহার পরিবার ভাড়া থাকত, সেখানে আশপাশে বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা আছে। এসব ক্যামেরার ফুটেজ থেকে দেখা গেছে, ঘটনাটি যে সময়ে ঘটেছে, সেই সময়ের মধ্যে তাদের কক্ষে সালেহা ছাড়া আর কেউ যাতায়াত করেনি। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি নিজেই পাশের বাড়ি থেকে তার দুই দেবরকে ডেকে নিয়ে আসেন। তার কথাবার্তা অসংলগ্ন হওয়ায় সন্ধ্যায় তাকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় তার হাতে কাটা দাগ দেখে পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। একপর্যায়ে মধ্যরাতে তিনি দুই সন্তানকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন।

পুলিশ জানায়, সালেহার স্বজনরা জানিয়েছেন যে, তিনি মাইগ্রেনের সমস্যায় ভুগছিলেন। কিন্তু মানসিক সমস্যা আছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি আরো পরিষ্কার হওয়া যাবে। পুলিশ তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর কবির আমার দেশকে বলেন, সালেহা প্রকৃতপক্ষে মানসিক রোগী। তাকে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একজন মানুষ অভিনয় করে দীর্ঘদিন তার চরিত্র লুকিয়ে রাখতে পারেন না। এমনকি সালেহা নিজে থেকেও কোনোদিন চিকিৎসা নেওয়ার কথা বলেননি। কারাগারে আসার পর থেকে তাকে তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নিয়মিতভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...