‘জনবান্ধব সিভিল সার্ভিস গঠন করতে হলে দক্ষ, পেশাদারদের ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতি, পদমর্যাদা ক্রম নির্ধারণসহ সকল ক্যাডারের মধ্যে সমতা নিশ্চিত এবং আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর করতে হবে। সিভিল সার্ভিস সংস্কার না করলে জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন বারবার ব্যর্থ হবে।’
শুক্রবার সকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ আয়োজিত ‘জনবান্ধন সিভির সার্ভিস বিনির্মাণে করণীয়: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
প্রশাসন ক্যাডারকে উদ্দেশ্য করে এসময় বক্তারা বলেন, "পদোন্নতিতে পরীক্ষা দিতে ভয় কীসের? আপনারা না মেধাবী! তাহলে এত ভয় কেন আপনাদের। উড়ে এসে জুড়ে বসার অভ্যাস বাদ দিন। ক্যাডার যার, মন্ত্রণালয় তার হতে বাধা হয়ে দাঁড়াবেন না। জনপ্রশাসক না হয়ে জনবান্ধব হোন। এমন বৈষম্য অব্যাহত থাকলে পরে বিস্ফোরণ আটকাতে পারবেন না।"
আলোচনা সভায় লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির সমন্বয়ক মুহম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, "পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ২৫টি ক্যাডারের সমস্যা ও সমাধান গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ।"
তিনি বলেন, "জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্তরায়সমূহ পর্যালোচনা করতে গিয়ে তিনটি মূল সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে– মন্ত্রণালয়ে অনভিজ্ঞ ও অপেশাদার কর্মকর্তার পদায়ন, আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদে কোটা পদ্ধতি প্রয়োগ এবং আন্তঃক্যাডার বৈষম্য। উল্লিখিত তিনটি সমস্যার সমাধান করলে সিভিল সার্ভিসের ক্যাডারগুলোর মধ্যে বৈষম্য দূর হবে, পাশাপাশি জনবান্ধব ও সেবামূলক রাষ্ট্রকাঠামো তৈরি হবে বলে এ পরিষদ মনে করে।"
পরিষদের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, 'প্রতিটি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দক্ষ, অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতে হবে। অর্থাৎ, কৃত্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা।'
এতে আরও বলা হয়, উপসচিব পদে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে এসএসপি প্রথা পুনরায় চালু করার মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে উপসচিব ও তদূর্ধ্ব পদে নিয়োগ প্রদান এবং ক্যাডারসমূহের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে হবে।'
মফিজুর রহমান বলেন, "সিভিল প্রশাসন সংস্কারের অংশ হিসাবে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশন গঠন বৈষম্যপূর্ণ হলেও আমরা এ কমিশনকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি। কমিশনের সাথে থেকে আলোচনার মাধ্যমে জনবান্ধব সিভিল প্রশাসন গড়তে কাজ করার অঙ্গীকার করেছি।"
তিনি আরও বলেন, "উপসচিব পদে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে সকল ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পরীক্ষার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু কমিশন আমাদের সাথে কোন প্রকার আলোচনা ছাড়াই উপসচিব পদে প্রশাসন ক্যাডারের জন্য ৫০ শতাংশ কোটা রেখে অন্যান্য ২৫টি ক্যাডারের জন্য পরীক্ষা ভিত্তিতে নিয়োগ এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারকে সিভিল সার্ভিস হতে আলাদা করার সুপারিশ করেছে, যা গ্রহণযোগ্য এবং জনবান্ধব সিভিল সার্ভিস গঠনের অন্তরায়।"
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

