আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাইয়ের শেষ দিন আজ। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংসদীয় ৩০০ আসনের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা আজ মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে বৈধ ও বাতিল প্রার্থীদের সংখ্যা জানাবেন।
ইসি সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ক্ষেত্রে নির্ধারিত সাতটি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে আবেদনকারীদের। আপিল দায়েরের জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অঞ্চলভিত্তিক ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। রোববার ইসি থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। আপিলের শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে ১২ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রতি সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও ইসির ১০ প্রশাসনিক অঞ্চলের জন্য ১০টি বুথের মাধ্যমে আপিল আবেদন গ্রহণ করা হবে।
ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাইয়ে বাতিল হওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা যেসব কারণে মনোনয়ন বাতিল করেছেন, আপিলে সেসব কারণের যৌক্তিকতা যাচাই করা হবে। বাতিলের কারণ সঠিক না হলে আইন অনুযায়ী মনোনয়ন গ্রহণ করা হবে।
আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে যে সাতটি নির্দেশনা মানতে হবে— আপিল আবেদন কমিশনকে সম্বোধন করে স্মারকলিপি আকারে নির্ধারিত ফরমেটে দাখিল করতে হবে; মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণ ও সংশ্লিষ্ট আদেশের সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করতে হবে; একটি মূল কপিসহ মোট সাতটি কপি জমা দিতে হবে; নির্ধারিত অঞ্চলের বুথে আবেদন দাখিল করতে হবে; ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে আপিল করতে হবে; আপিলের রায়ের কপির জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে এবং আপিলকারী বা তার মনোনীত ব্যক্তি রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
আপিল দায়েরের জন্য আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ১০টি বুথ থাকবে। বুথ নং-১ (খুলনা অঞ্চল), বুথ-২ (রাজশাহী অঞ্চল), বুথ-৩ (রংপুর অঞ্চল), বুথ-৪ (চট্টগ্রাম অঞ্চল), বুথ-৫ (কুমিল্লা অঞ্চল), বুথ-৬ (সিলেট অঞ্চল), বুথ-৭ (ঢাকা অঞ্চল), বুথ-৮ (ময়মনসিংহ অঞ্চল), বুথ-৯ (বরিশাল অঞ্চল) এবং বুথ-১০ (ফরিদপুর অঞ্চল) সংশ্লিষ্ট জেলার আপিল আবেদন গ্রহণ করবে।
এদিকে, ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯। এর মধ্যে ৫১টি রাজনৈতিক দল এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। আটটি দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। অংশ না নেওয়া দলগুলো হলো— বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)।
এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ভেনেজুয়েলায় বিনা মূল্যে ইন্টারনেট চালু করছেন ইলন মাস্ক