দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, মুসলমানের জেহাদ জ্ঞান অর্জনের জন্য হওয়া উচিত। এখন আমাদের দরকার জ্ঞানের বিপ্লব। তাহলেই বিশ্বকে জয় করা যাবে। চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে আমাদের তরুণরা প্রমাণ করেছেন তারা জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। আল্লাহ যদি সহায় থাকেন, আমার বিশ্বাস তারা অনেক কিছু করতে পারবেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হতে পেরেছি, তরুণ সমাজকে এ জন্য ধন্যবাদ।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আইআইইউসি ১৬তম টেকফেস্ট-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দিক থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে। কারণ আমরা নিজেরা যেমন এই বিষয়কে গুরুত্ব দিই না, তেমনি আমাদেরও সরকারও গুরুত্ব দেয় না। সরকার একজন অর্থনীতিবিদকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন। তিনি আবার অর্থ উপদেষ্টা। এতেই বোঝা যায় সরকার এই খাতকে কতটা গুরুত্ব দেয়। আমার সন্দেহ আছে সালাউদ্দিন আহমেদ কয়দিন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মিনিস্ট্রিতে অফিস করেছেন। এমনকি তিনি এখন পর্যন্ত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে কিছুই করেননি। সরকারের পক্ষ থেকে তরুণদের উৎসাহ দিতে কোনো সেমিনার, প্রশিক্ষণ কর্মশালা করেননি। আমার মনে হয় আগামী ফেব্রুয়ারিতে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে তাদের মধ্যে যাকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হবে তিনি হয়তো ভাববেন তাকে সবচেয়ে কম গুরুত্বহীন মন্ত্রণালয় দেয়া হয়েছে। কিন্তু সেটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়।
জ্ঞান-বিজ্ঞানে মুসলমানদের ইতিহাস তুলে ধরে প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান বলেন, পৃথিবীতে ২০০ কোটি মুসলমান আছে, কিন্তু সবাই আজ নির্যাতিত। কিন্তু এই বাস্তবতা আগে ছিল না। ইসলামিক সিভিলাইজেশন তরবারি ও ক্ষমতা দিয়ে হয়নি, হয়েছে জ্ঞান আর বিজ্ঞান দিয়ে। ইউরোপীয় রেঁনেসা ইসলামিক রেঁনেসা থেকে এসেছে। টেকফেস্টে অংশগ্রহণকারীদের অভিনন্দন। এদের হাত ধরে আবারও ইসলামি রেনেসাঁ নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হবে। এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মের ওপর নির্ভর করবে।
তিনি আরো বলেন, মানুষের মেশিনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। মেশিন মানুষকে জ্ঞানশূন্য করে দেবে। এখন মেশিন মানুষকে স্থবির করে দিচ্ছে। কারণ সব তথ্য যদি গুগলে পাওয়া যায় তাহলে ব্রেন ডেড হয়ে যাবে। কারণ তখন ব্রেন আর কাজ করবে না। আমি এখনও হাতের কর গুনে অঙ্ক করি। কাজেই আমরা বুয়েটে অঙ্ক করতাম, তখন স্লাইটবুল দিয়ে অঙ্ক করতাম। স্লাইটবুল কী আপনারা জানেন না, দেখেননি। এখন ছেলেমেয়েদের নামতা বলতে বলা হয় না। আমাদের সময় মা-বাবা, মুরুব্বিরা বিপদে ফেলতে চাইলে তারা নামতা বলতে বলতেন। কাজেই এই প্র্যাকটিসগুলো থাকা দরকার। তাহলে ব্রেন কর্মক্ষম থাকবে। মেশিন মানুষকে অথর্ব বানাচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান তরুণ সমাজ অনেক বেশি স্মার্ট। তারা হাজার মানুষের সামনে মাইকে দৃঢ়তার সাথে বক্তব্য দিতে পারে। আমার বিশ্বাস এই তরুণদের মধ্যে আগামীর বিশ্ব জয় করার মতো বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকরা জন্ম নেবেন।
ড. মাহমুদুর বলেন, আমরা বিজ্ঞানের কথা বলতে গেলে আইনস্টাইন, নিউটন ও কোপারনিকাসের গল্প বলি। কিন্তু মুসলমান বিজ্ঞানীদের গল্প আমরা বলি না। কেবল নবম থেকে ১২তম শতাব্দীতে ১০ জন মুসলমান বিজ্ঞানী রয়েছেন, যারা বীজগণিত, কেমিস্ট্রি, ইতিহাসের আবিষ্কারক। মাত্র দুইশো বছরের ইতিহাসে ১০ জন পাওয়া গেলে পুরো ইতিহাস ঘাঁটলে ১০০ জন মুসলমান বিজ্ঞানীর নাম পাওয়া যাবে।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর মোহাম্মদ আলী আজাদীর সভাপতিত্বে গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইমাদুর রহমান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইআইইউসি'র ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, আকিজ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের হেড অব অপারেশন মো. তৌহিদুল ইসলাম ফয়সাল প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

