চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ৫৯ হাজার হাজি সৌদিতে, ‘সুশৃঙ্খল হজ ব্যবস্থাপনা’ দাবি হাবের

স্টাফ রিপোর্টার

চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ৫৯ হাজার হাজি সৌদিতে, ‘সুশৃঙ্খল হজ ব্যবস্থাপনা’ দাবি হাবের

সৌদি আরবের নতুন শর্ত, এজেন্সি পুনর্বিন্যাস, ভিসা জটিলতা, হোটেল অনুমোদন সংকট এবং ফ্লাইট সমন্বয়ের মতো একাধিক বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যেও চলতি বছরের হজ কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে চলছে বলে দাবি করেছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।

সংগঠনটি জানিয়েছে, এ বছর এখন পর্যন্ত ৫৯ হাজারের বেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন এবং নিবন্ধিত প্রায় সব হাজিই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হজ পালন করতে পারবেন বলে তারা আশা করছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৬ মে) আশকোনার হজ ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাব সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার ও মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার এসব তথ্য তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে হজ কার্যক্রমের সর্বশেষ অবস্থা, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং সরকারি উদ্যোগের বিষয়গুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

এয়ারলাইন্সগুলোর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা বন্ধ করা গেলে হজের মোট খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন হাব সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার। তিনি বলেছেন, হজ ডেডিকেটেড ফ্লাইটের নামে বিমান সংস্থাগুলো হজযাত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ৫৪ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। এই মনোপলি বা একচেটিয়া ব্যবসার কারণে সাধারণ যাত্রীদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে।

গোলাম সরওয়ার বলেন, “আমাদের টিকিটের দাম যদি কমে যেত, হাজিদের কোটা পূরণ হয়ে যেত। টিকিটের দাম যদি আমরা ১ লাখ টাকার মধ্যে আনতে পারতাম, তাহলে আমাদের ১ লাখ ২৯ হাজার হাজি যেতে পারত। আমাদের টিকিটের মূল্য এবং মোয়াল্লেমের খরচ বেড়ে যাওয়ায় হাজি কমে গেছে। আমরা সরকারের সঙ্গে কথা বলেছি, আশা করি ২০২৭ সালে আমাদের টিকিটের দাম কমবে।”

সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরের হজের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন সংগঠনের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার। তিনি বলেন, “এবার দ্রুততম সময়ের মধ্যে মোয়াল্লেম চুক্তি, বাড়ি ভাড়া, ট্রান্সপোর্ট চুক্তি এবং তাঁবু নির্বাচনের কাজ করতে হয়েছে। নানামুখী চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে চললেও শেষ পর্যন্ত ধর্ম মন্ত্রণালয়, হজ অফিস এবং হাবের যৌথ সহযোগিতায় এবারের হজ ব্যবস্থাপনা সফল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগামী ২১ মে শেষ হবে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট। এ বছর মোট ৭৮,৩৭৮ জন হজযাত্রী ভিসা পেয়েছেন। এর মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ৫৯,০৫৫ জন সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। বাকি যাত্রীরাও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছাবেন বলে আশা করছে হাব।

হাব মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবারের হজ কার্যক্রম ছিল অনেক বেশি চ্যালেঞ্জপূর্ণ। তিনি জানান, হঠাৎ করেই সৌদি সরকার এজেন্সিপ্রতি ন্যূনতম দুই হাজার হাজির কোটা বাধ্যতামূলক করে। অথচ দেশে প্রায় ১১০০ হজ লাইসেন্সধারী এজেন্সি রয়েছে। ফলে মাত্র ৩০টি লিড এজেন্সির সঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক এজেন্সির সমন্বয় করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তবে তিনি হজযাত্রীদের মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে টাকা না দিয়ে সরাসরি এজেন্সির মাধ্যমে নিবন্ধন করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, হজ নিবন্ধনের পর সৌদি সরকার ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। একই সঙ্গে খুব অল্প সময়ের মধ্যে মোয়াল্লেম চুক্তি, বাড়িভাড়া, পরিবহন ব্যবস্থা এবং তাঁবু নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়েছে। এমনকি ফ্লাইটের সময়সূচি ও আসন বরাদ্দ চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বাড়িভাড়া সম্পন্ন করতে হয়েছে।

ফরিদ আহমেদ মজুমদার অভিযোগ করেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ মক্কা ও মদিনার অনেক হোটেল ও বাড়ির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার আগেই ভাড়া চুক্তি সম্পন্ন করতে বাধ্য করেছে। পরে কিছু হোটেলে হাজিদের ওঠার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও হজ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে হাব নেতারা চলতি হজ ব্যবস্থাপনায় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে হাব নেতারা বলেন, সৌদি পর্বের নানা জটিলতা, ফ্লাইট সমস্যা এবং টিকা সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধানে তিনি কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। এছাড়া আশকোনা হজ ক্যাম্পে হাজিদের চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, কর্মীদের খাবার এবং লাগেজ র্যাপিংয়ের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হাব সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার বলেন, কিছু ছোটখাটো বিচ্যুতি ঘটলেও মন্ত্রণালয়, হজ অফিস এবং হাবের সমন্বিত উদ্যোগে সমস্যাগুলোর সমাধান করা হয়েছে। তিনি বলেন, “যেসব ঘটনায় অনিয়ম বা গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করা হয়। হাব নেতারা বলেন, সৌদি সরকারের নতুন নতুন সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশের বিদ্যমান হজ ও ওমরাহ আইন সংস্কার এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। হজ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরপরই এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

হাবের মতে, আন্তর্জাতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইন ও নীতিমালা সংস্কার না করলে ভবিষ্যতে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সৌদি সরকারের দ্রুত নীতি পরিবর্তন এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তাল মেলাতে বাংলাদেশের প্রস্তুতি বাড়ানো প্রয়োজন বলেও মত দেন তারা।

মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার বলেন, বহু চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার, সংশ্লিষ্ট সংস্থা, হজ এজেন্সি এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুশৃঙ্খল হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। তারা ভবিষ্যতে আরও উন্নত, আধুনিক ও সমন্বিত হজ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...