আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আট বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলো ৫৮ হাজার টন ভুট্টা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

আট বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলো ৫৮ হাজার টন ভুট্টা

আট বছর পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫৭ হাজার ৮৫৫ টন ভুট্টার একটি বড় চালান বাংলাদেশে পৌঁছেছে। বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের কনফিডেন্স সিমেন্ট ঘাটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ভুট্টার খালাস কার্যক্রম শুরু হয়। ‘এমভি বেলটোকিও’ নামের মাদার ভেসেলটি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ভ্যাংকুভার বন্দর থেকে যাত্রা করে গত ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

চালানটিতে নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও মিনেসোটায় উৎপাদিত মোট ৫৭ হাজার ৮৫৫ টন হলুদ ভুট্টা রয়েছে। দেশের পশুখাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপ, প্যারাগন গ্রুপ ও নারিশ পোলট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড যৌথভাবে এ পণ্য আমদানি করে। এর মধ্যে নারিশ সংগ্রহ করবে ২৯ হাজার টন, প্যারাগনের অংশ ১৯ হাজার টন ও নাহার অ্যাগ্রো পাবে ১০ হাজার টন।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম বন্দরে চালানটিকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট। তিনি আমদানিকারক, সরবরাহকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপের চেয়ারম্যান রাকিবুর রহমান, প্যারাগন গ্রুপের প্রতিনিধি গৌতম মজুমদার, নারিশ পোলট্রির পরিচালক রফিকুল ইসলাম ও এক্সেল অ্যাগ্রো ট্রেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াদ খান।

আমদানিকারকদের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ ভুট্টা বাংলাদেশে পৌঁছতে প্রায় ৪৬ দিন সময় লেগেছে। প্রতি টন ভুট্টার আমদানি মূল্য ধরা হয়েছে ২৪৬ ডলার। বন্দরে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতি কেজির সম্ভাব্য খরচ ৩৪ টাকা, যা ব্রাজিল থেকে আনা সাম্প্রতিক চালানের তুলনায় কম। ব্রাজিল থেকে যেসব ভুট্টা আমদানি হয়েছে, সেগুলোর টনপ্রতি মূল্য ছিল ২৫১ থেকে ২৬০ ডলার।

নাহার অ্যাগ্রো গ্রুপের চেয়ারম্যান রাকিবুর রহমান বলেন, দেশের মোট চাহিদার মাত্র ৩০ শতাংশ ভুট্টা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়, অবশিষ্ট অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। আমাদানিতে দীর্ঘ সময় লাগলেও মানের দিক থেকে মার্কিন ভুট্টা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য, যা পশুখাদ্যের গুণগত মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

আমদানি ও উৎপাদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের ভুট্টার সরবরাহ ছিল প্রায় ৭০ লাখ টন। এর মধ্যে দেশে উৎপাদন হয় ৫৫ লাখ টন। আমদানি হয় ১৪ লাখ ৮৮ হাজার টন। অর্থাৎ চাহিদার ২১ শতাংশ আমদানি হয়েছে গত অর্থবছরে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ভুট্টা আমদানির বড় অংশই আসে ব্রাজিল থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩১ কোটি ৭৪ লাখ ডলার ব্যয়ে ১৪ লাখ ৮৮ হাজার টন ভুট্টা আমদানি হয়। এর মধ্যে ব্রাজিল থেকে আমদানি হয় ৮৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এ তালিকায় যুক্ত হলো যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ চালান কেবল বাণিজ্যিক লেনদেন নয়, বরং দুদেশের কৃষি ও খাদ্য খাতের সহযোগিতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত হলে পশুখাদ্য শিল্পে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন আরো স্থিতিশীল হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন