সবাই আমাকে ভালোবেসে কচলায়: সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা

সংসদ রিপোর্টার

সবাই আমাকে ভালোবেসে কচলায়: সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা
ফাইল ছবি

তাকে ‘ভালোবেসে’ সবাই কচলায় বলে মন্তব্য করেছেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, পড়ছি মছিবতে। সবাই আমাকে খুব ভালোবাসে তো! তাই আমাকে নিয়ে কচলায় সবাই।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি বিজেপির সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন। বিরোধীদলীয় নেতার এ মন্তব্যে সংসদে হাসির রোল পড়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

‘জিয়া পরিবার থেকে মানুষকে মুক্ত করার.. বিষয়ে পার্থের বক্তব্যের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমাদের পার্থ সাহেব। আমি শুনেছি উনি খুব ভালো ডিবেট করতেন। প্রচুর ম্যাটারিয়াল নিয়ে আসছেন। কিছু উনি সঠিক চালান দিয়েছেন। কিছু বেঠিক চালান দিয়েছেন। আগেরদিনও এরকরম এতটু বক্তব্য.. পরে আমি ব্যক্তিগতভাবে উনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উনি কার নামে কোট করেছেন আমি বুঝতে পারিনি। কিন্তু ফাইলটা শুরু করেছেন আমার নামে। উনি বলেছেন, আমি জিয়া পরিবারকে… এসময় পার্থ মাইক ছাড়া বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া দেখালে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, না না উনি মেনশন করেননি। লেট মি সে। জিয়া পরিবারকে আমি নিশ্চিহ্ন… ইত্যাদি হাবিজাবি করতে বলেছি। আমি চ্যালেঞ্জ করছি- হোয়েন, ওয়ার, হাউ। প্লিজ কিলারিফাইড। আমি এ ধরনের রেকলেস কথা কারো নামেই বলিনা। এমন কী শেখ হাসিনার পরিবারের নামেও আমি বলি না। যে দোষ করবে তার সাথে যাবে বিষয়টি। অন্য কেউ বললে সেটা আমার নামে চালান হবে না। উনাকে অনুরোধ করবো বক্তব্যের মাধুর্য ছড়াতে গিয়ে আমার ওপরে যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের দয়া উনি না করেন। আমাকে এত ভালোবেসে সব কিছু আমার নামে চালান দিলে এই বোঝা বোধ হয় আমি অপরাগ।

জবাবে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, আমার হাতে ডকুমেন্ট আছে। জিয়া পরিবারকে মানুষকে মুক্ত করার- এনসিপির এক নেতা বলেছেন। এই বক্তব্যে বিরোধী দলের সদস্যরা হৈ চৈ শুরু করেন। এতে করে সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় পার্থ বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি উনার কথা বলেনি। যিনি বলেছেন তার কথা বলেছি।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এক পর্যায় অর্ডার অর্ডার করে বলেন, এত উত্তেজিত হবেন না। অনারেল মেম্বার অব মাই লেফট সাইট (বিরোধী দল) প্লিজ টেক ইউর সিট। এসময় অন্যরা বসলেও বিরোধী দলীয় নেতা দাড়িঁয়ে ছিলেন। পরে স্পিকার তাকে বসতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, স্পিকারকে কথা বলতে দিন। আমি কিছু কথা বলবো। কারো বক্তব্য এখানে আপনার পছন্দ হতে পারে নাও পছন্দ হতে পারে। কিন্তু আপনার এর বিরোধীতা করার সুযোগ নেই। আমরা চব্বিশের চেতনার কথা বলি। কিন্তু জাতি তো এই চেতনা দেখতে চায় না।

পরে ডেপুটি স্পিকার আবারো পার্থকে ফ্লোর দেন। ফ্লোর পেয়ে তিনি তার বক্তব্যের বাখ্যা দিয়ে বলেন, আমি ১১ দলীয় জোট ও বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে উনার নাম বলে শুরু করেছি। কিন্তু এই ক্লিপগুলোতে আরো অন্যান্যের কথা রয়েছে। এজন্য ব্যাখ্যা করিনি। আমি উনাকে দায়ী করে কথা বলিনি। এটা ভুল বোঝাবুঝি মাত্র। আর কাউকে মিথ্যাভাবে দায়ি করার সুযোগ এই ডিজিটাল যুগে নেই। এটা হলে প্রমাণ হয়ে যাবে। আমার মিথ্যা বলার দরকার নেই। জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সারাদিন বলতে পারবো।

পরে বিরোধী দলের নেতা বলেন, এই সংসদে কোন ডকুমেন্ট হাতে নিয়ে কোন রেফারেন্স যখন দেবো- তা ক্লিয়ার ও যথাযথ হতে হবে। তাহলে কোন সমস্যা হবে না। সেটা কারো চ্যালেঞ্জ করার থাকলে করবে। স্বীকার করার হলে সেটাও করবে। কিন্তু কনফিউজিং ওয়েটে যদি আমরা উপস্থাপন করি- তাহলে সমস্যা তৈরি হবে। সবাইকে বলবো ডকুমেন্টস দিয়ে কথা বললে তা সুনির্দিষ্টভাবে হতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...