রাশেদের পত্রিকা ছেঁড়ার ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য অশনিসংকেত: নেজামে ইসলাম পার্টি

রাশেদের পত্রিকা ছেঁড়ার ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য অশনিসংকেত: নেজামে ইসলাম পার্টি

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার কপি ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।

বিজ্ঞাপন

দলটির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার বলেছেন, একজন দায়িত্বশীল সরকারি পদে থাকা ব্যক্তির এমন আচরণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য অশনিসংকেত।

রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কোনো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন কারও কাছে ভুল, আপত্তিকর কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হলে তার প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রয়েছে। কিন্তু একজন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে সংবাদপত্র ছিঁড়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করা দায়িত্বশীল আচরণ হতে পারে না। তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জবাব দেওয়া কিংবা আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সংবাদপত্র ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানানোর এ প্রবণতা গণমাধ্যমের প্রতি অসহিষ্ণুতার বার্তা দেয়।

তিনি বলেন, একজন সরকারি দায়িত্বশীল ব্যক্তিই যদি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য সহ্য করতে না পারেন, তাহলে সাধারণ সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যম কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন? সরকারের সমালোচনা করা, ক্ষমতাসীনদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ করা গণমাধ্যমের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক দায়িত্ব। সরকার বা সরকারের কোনো ব্যক্তির অপছন্দ হলেই সংবাদমাধ্যমকে হেয় করা কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরিবেশ তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মাওলানা মুসা বিন ইযহার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। অথচ ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের এমন আচরণ সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সরকারকে মনে রাখতে হবে, গণমাধ্যম সরকারের মুখপাত্র নয়। বরং রাষ্ট্র ও সমাজের অনিয়ম-অসংগতি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

বিবৃতিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের এমন আচরণের ব্যাখ্যা দাবি করে বলেন, গণমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে কিংবা অপমান করে সত্য প্রকাশের পথ বন্ধ করা যাবে না। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। অন্যথায় জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশেও পুরোনো কর্তৃত্ববাদী সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা থেকেই যাবে।

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন