আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি ২১ রাজনৈতিক দল

আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়নি ২১ রাজনৈতিক দল

নির্ধারিত সময় পার হলেও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ২০২৪ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব (অডিট রিপোর্ট) জমা দেয়নি ২১টি রাজনৈতিক দল। এর মধ্যে ১০টি দল হিসাব জমা দেওয়ার জন্য এক বা দুই মাস সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে। বাকি ১১টি দল বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দেয়নি, এমনকি সময় বৃদ্ধির আবেদনও দাখিল করেনি। অন্যদিকে, নিবন্ধিত ৫০টি দলের মধ্যে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতসহ ২৯টি দল নির্ধারিত সময়ে অডিট রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার শেষ দিনে ইসির জনসংযোগ পরিচালক শরিফুল আলম সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। একইদিন ইসির নির্বাচন সহায়তা-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের স্বাক্ষরে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের অডিট রিপোর্ট সংক্রান্ত সারসংক্ষেপও তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রথা চালুর পর থেকে প্রতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর আগের পঞ্জিকা বছরের (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) অডিট রিপোর্ট স্বীকৃত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম দিয়ে নিরীক্ষা করে ইসিতে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়েরে মধ্যে এই হিসাব জমা দিতে না পারলে সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারে দলগুলো। সাধারণত দলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়ানোর নজিরও রয়েছে। এ বিষয়ে কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী পরপর তিন বছর আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে।

বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টিসহ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে ৫০টি। প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতার মধ্যে ছিল না দলটি। অন্যদিকে, এক যুগের মাথায় এবার আদালতের আদেশে জামায়াতের নিবন্ধন পুনর্বহাল হওয়ার কারণে দলটিকেও অডিট রিপোর্ট জমা দিতে হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি ইসির নিবন্ধন লাভ করায় দলটির ক্ষেত্রে অডিট রিপোর্ট প্রযোজ্য নয়।

ইসির তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়া দলগুলো হচ্ছে- জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, জমিয়তে উলামায়ে বাংলাদেশ, গণফোরাম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম, বাংলাদেশ কংগ্রেস, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি), নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (প্রযোজ্য নয়) ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)।

অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য এক মাস (৩১ ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম।

দুই মাস সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে- বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল।

এছাড়া হিসাব জমা দেয়নি এবং সময় বাড়ানোর জন্য আবেদনও দাখিল করেনি এমন দলগুলো হচ্ছে- কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ, জাকের পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ) এবং গণসংহতি আন্দোলন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন