রাজধানীতে বাস রুট র্যাশনালাইজেশন কার্যক্রমের আওতায় সাতটি রুটে সাতটি কোম্পানির অধীনে ৮৬১টি বাস চলাচলের উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
এ সময় শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী দেশের সম্পদ। এ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগাতে হলে সর্বক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অতীতে নানা প্রতিবন্ধকতা ও প্রভাবশালী মহলকে প্রশ্রয় দেওয়ার কারণে পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ বিলম্বিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের কারণে পরিবর্তনের উদ্যোগ দ্রুততর হয়েছে। সাতটি রুটে বাস চলাচলের মধ্য দিয়ে যে উদ্যোগ শুরু হলো, তা শুধু উদ্বোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেন এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের মহাসচিব মোখলেছুর রহমান।
ডিটিসিএর তালিকা অনুযায়ী, রুটগুলো হলো—গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে আজিমপুর, টঙ্গী থেকে আজিমপুর, মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া, মোহাম্মদপুরের ঘাটারচর থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, ঘাটারচর থেকে চিটাগাং রোড-কাঁচপুর, ঘাটারচর থেকে আবদুল্লাহপুরের ধউর এবং মিরপুর-১ থেকে কাকলী-বনানী সার্কুলার রুট।
এর মধ্যে শিববাড়ী-আজিমপুর রুটে ভিআইপি সিটি পরিবহনের ২৫৩টি, টঙ্গী-আজিমপুর রুটে ঢাকা সিটি পরিবহনের ২০টি এবং মিরপুর চিড়িয়াখানা-চুনকুটিয়া রুটে চিড়িয়াখানা সিটি পরিবহনের ১৩৩টি বাস চলবে।
এ ছাড়া ঘাটারচর-ডেমরা রুটে রমজান আলী সিটি পরিবহনের ৮০টি, ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে থ্রি স্টার সিটি পরিবহনের ১২০টি, ঘাটারচর-ধউর রুটে পি. পি. বি. সিটি পরিবহনের ২২৫টি এবং মিরপুর-১-কাকলী সার্কুলার রুটে ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের ৩০টি বাস চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে।
রুটগুলোর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ কিলোমিটার। এসব রুটে এসি ও নন-এসি বাস চলাচল করবে।
রুট র্যাশনালাইজেশন ব্যবস্থার আওতায় চলাচলকারী বাসের জন্য বেশ কিছু নিয়ম নির্ধারণ করেছে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। নিয়ম অনুযায়ী, বাসগুলো পরিচ্ছন্ন ও চলাচলের উপযোগী রাখতে হবে। বাসের সামনে ও পেছনে ডিজিটাল বোর্ডে রুট নম্বর, যাত্রার শুরু ও শেষ গন্তব্য এবং গাড়ির ক্রমিক নম্বর প্রদর্শন করতে হবে।
পাশাপাশি, যাত্রাপথের স্টপেজের তালিকা বাসে সংযুক্ত রাখতে হবে। চালক ও কর্মীদের পরিচ্ছন্ন পোশাক পরতে হবে এবং যাত্রীদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করতে হবে। নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া অন্য কোথাও যাত্রী ওঠানো-নামানো যাবে না। অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার জন্য স্টপেজে নির্ধারিত সময়ের বেশি অপেক্ষা করা যাবে না। এ ছাড়া রাস্তায় অন্য গাড়ির চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে ওভারটেকিং করা যাবে না।
ঢাকার ৩২টি রুটে পর্যায়ক্রমে এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় প্রতিটি রুটের বাসে আলাদা রং ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


