উপদেষ্টা হওয়ার পর লাইসেন্স পান স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূইয়া। সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ স্ক্যান করার সময় উপদেষ্টার ব্যাগের ভিতর থেকে পিস্তলের মাগাজিন পাওয়ার পর এ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।
উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা জাস্ট একটা ভুল। অস্ত্রটি উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের লাইসেন্স করা। এটি একটি পিস্তল। একে-৪৭ নয়’। সোমবার সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। মরক্কোর মারাকেশে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল প্রোগামে’ অংশ নিতে গতকাল রবিবার ভোরে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে দিয়ে যাওয়ার সময় স্ক্যানিংয়ের সময় তার ব্যাগে ম্যাগাজিন থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
অনেকে বলছেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ একে ৪৭ এর লাইসেন্স পেয়েছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘না এটা একে ৪৭ নয়। এটা তারাই একটা লাইসেন্সকৃত হাতিয়ার। ম্যাগাজিনটা ভুলে উনার (উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ) ব্যাগে রয়ে গেছে। এটা জাস্ট একটা ভুল। একজন জানে, এক জায়গায় একটা জিনিস নেওয়া যাবে না, তাহলে তো সে নিবে না। উনি (উপদেষ্টা আসিফ) যদি জানতে পারতেন তাহলে তো নিতেন না। অনেক সময় এমন হয় যে আপনি চশমা নিয়ে যাবেন কিন্তু ভুলে চশমা না নিয়ে মোবাইল নিয়ে রওনা হয়ে গেলেন’।
বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে ৩০ বছর বয়স হওয়া লাগে কিন্তু উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বয়স ৩০ বছর হয়নি। তিনি কিভাবে লাইসেন্স পেলেন-এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমি যেহেতু আইনটা দেখিনি তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না।
বিমানবন্দরে তৃতীয় দফায় স্ক্যানিং করার পর অস্ত্রের ম্যাগাজিন ধরা পড়েছে। এক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেন, ‘ধরেন আমার ভাই একজন নেতা। উনি যখন ঢোকে, তখন অন্যদের থেকে একটু বেশি প্রিভিলেজ পায়। এই প্রিভিলেজটা যেন কারও ক্ষেত্রে না হয়; সবার জন্যে আইন যেন সমান হয়, এজন্যে বলা হয়েছে।’
উপদেষ্টা জানান, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় ১ জুলাই থেকে ৫ অগাস্টের কর্মসূচি পালন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে আমাদের একটা বড় ইভেন্ট। বিভিন্ন দল ও সামাজিক সংগঠনের অনেক অনুষ্ঠান থাকবে। অনুষ্ঠানগুলো কীভাবে নির্বিঘ্ন করা যায়, সেসব ব্যাপারেই আলোচনা হয়েছে। অনুষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে কোনো হুমকি নেই; সবাই অংশগ্রহণ করবে।’
কুমিল্লার মুরাদনগরসহ ধর্ষণের ঘটনার বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রশ্ন করা হয়; দেশের লোকজন কি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভয় পায় না? জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘না, এরকম কিছু নয়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা নিয়ে জনগণের পারসেপশন এখন অনেক ভালো; পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

