আসন্ন ডাকসু নির্বাচনের সঙ্গে সেনাবাহিনীর কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন সেনাসদরের সামরিক অপারেশন পরিদপ্তরের ডিরেক্টরেট (কর্নেল স্টাফ) কর্নেল মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, যারা নির্বাচন করছেন তাদের জন্য শুভ কামনা। ডাকসু নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে সাইবার জগতে নানা প্রপাগান্ডা চলছে।
সোমবার দুপুরে সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান কর্নেল শফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান,গত ২৯ আগস্ট কাকরাইলস্থ জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সেনাবাহিনীর সাহায্যের জন্য অনুরোধ করে। সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর উত্তেজিত নেতাকর্মীদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিহার করতে বারংবার অনুরোধ জানায় এবং পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আসে।
তিনি আরো জানান, পরবর্তীতে বিশৃঙ্খলাকারীরা মশাল, লাঠি ও ইট পাটকেল নিয়ে অবস্থান গ্রহণ করে পুনরায় সহিংসতা শুরু করে। তারা একাধিক স্থানে অগ্নিসংযোগ করে এবং সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে সেনাবাহিনীর ৫ সদস্য এবং পুলিশের ৬ সদস্য গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর একটি পিকআপের উইন্ডশিল্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
কর্নেল শফিকুল ইসলাম জানান, গত এক মাসে সেনাবাহিনী ৬৫টি অবৈধ অস্ত্র ও ২৯৭ রাউন্ড গোলাবারুদ এবং আগস্ট হতে এ পর্যন্ত ১২,১১৯টি হারানো অস্ত্রের মধ্যে ৯,৭৯৪টি অস্ত্র ও ৩,৯০,০০০ রাউন্ড হারানো গোলাবারুদ এর মধ্যে ২,৮৭,৩৫৯ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে।
তিনি জানান, এছাড়াও, বিভিন্ন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত এ পর্যন্ত সর্বমোট ১৭,৯২৬ জন এবং গত এক মাসে ১ হাজার ২৯৪ জনকে সেনাবাহিনী গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি আরো জানান, চোরাচালান প্রতিরোধ সেনাবাহিনী গত ৩, ৬ ও ২৭ আগস্ট সিলেট ও সুনামগঞ্জ-জেলার বিভিন্ন স্থানে চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ২ কোটি ১৯ লাখ টাকার বিভিন্ন পণ্য জব্দ করে। ২৬ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ এক মাসব্যাপী রুমা উপজেলার দুর্গম এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এসব সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



