অন্ধত্ব ও দৃষ্টিশক্তিজনিত সমস্যা মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ২ কোটি মানুষকে উন্নত প্রাথমিক চক্ষুসেবা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সময়ে ১ কোটি মানুষকে চশমা দেওয়া, ১০ লাখ মানুষের ছানি অপারেশন এবং ৮০ শতাংশ চক্ষু বিশেষজ্ঞকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ‘বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত এসব পরিকল্পনার কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রাথমিক চক্ষুসেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্তর্ভুক্ত করে তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, স্কুলশিক্ষার্থী এবং পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে এ সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে মানুষের কর্মক্ষমতা, কাজের দক্ষতা ও আয় বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
চক্ষুসেবা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে একটি যথাযথ রেফারেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে জানিয়ে ডা. এম এ মুহিত বলেন, রেফারেল হাসপাতালগুলো চিহ্নিত করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে স্ক্রিনিং ও রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে যেসব রোগী শনাক্ত হবেন, তাঁদের উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।
সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ১ কোটি মানুষকে, যার মধ্যে স্কুলপড়ুয়া শিশুরাও রয়েছে, চশমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া অন্তত ১০ লাখ মানুষের ছানি অপারেশন, ৮০ শতাংশ চক্ষু বিশেষজ্ঞকে প্রশিক্ষণ এবং কর্মসূচিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে একটি ‘জাতীয় চক্ষু স্বাস্থ্য কৌশলগত পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করা হবে।
এসব প্রতিশ্রুতিকে আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় ‘গ্লোবাল সামিট ফর আই হেলথ’-এ উপস্থাপন করা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে চক্ষুসেবার আওতায় আনা, ১ কোটি মানুষকে চশমা দেওয়া এবং ১০ লাখ ছানি অপারেশন করা সহজ কাজ নয়। তবে এ খাতে কর্মরত সবার উদ্দীপনা, ঐক্য, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও প্রমাণভিত্তিক কর্মপদ্ধতি লক্ষ্যগুলো অর্জনে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।
‘আইএনজিও ফোরাম ইন আই হেলথ’-এর সহায়তায় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং অফথালমোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওএসবি) যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. সৈয়দ মাহবুবুল কাদির, আইএপিবির কান্ট্রি চেয়ার (বাংলাদেশ চ্যাপ্টার) ও অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ, ওএসবির সভাপতি ডা. মো. তৌহিদুর রহমান ও মহাসচিব অধ্যাপক মো. নিনু রেইন (নিউটন), আইএনজিও ফোরামের চেয়ার ও সাইটসেভার্সের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও এবং ভিশনস্প্রিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশা মাহজাবিন।
ডা. মুনির আহমেদ বলেন, দেশে চক্ষুসেবা সম্প্রসারণে এ খাতের সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করে, চক্ষু স্বাস্থ্যসেবাকে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন এজেন্ডার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশে কর্মরত আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর দ্য ব্লাইন্ড’-কে পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছে।
চক্ষুসেবা খাতে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. মুনির আহমেদ বলেন, জবাবদিহিমূলক নেতৃত্বের কাঠামো ছাড়া কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা কঠিন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


