আজ বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস

পুরুষ দুটি আর নারী পাঁচটি পদ্ধতি ব্যবহার করেন

পুরুষ দুটি আর নারী পাঁচটি পদ্ধতি ব্যবহার করেন

দেশে পরিবার পরিকল্পনায় জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের সিদ্ধান্তে পুরুষের চেয়ে নারীরাই বেশি এগিয়ে আছেন। জন্মনিয়ন্ত্রণের সাতটি আধুনিক পদ্ধতির মধ্যে নারীরা পাঁচটি পদ্ধতি আর পুরুষেরা ব্যবহার করেছেন মাত্র দুটি (কনডম ও ভ্যাসেকটমি) পদ্ধতি।

পুরুষদের কনডম ব্যবহারের হার মাত্র ৭ শতাংশ। অন্যদিকে ৬৩ শতাংশ নারী জন্মনিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। অথচ নারীর ব্যবহারের পদ্ধতিগুলোর কোনোটিই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত নয়। এসব পদ্ধতি গ্রহণ করতে গিয়ে নারীরা শারীরিক ও মানসিক নানা সংকটে ভুগে থাকেন। অন্যদিকে পুরুষের জন্য তৈরি কনডমের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এটা অত্যন্ত সহজলভ্য এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য পদ্ধতি।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসকেরা জানান, দেশে জন্মনিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব এখনো নারীর কাঁধে। অথচ জন্মনিয়ন্ত্রণ যৌথ দায়িত্ব, যা স্বামী-স্ত্রী দুজনের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই হতে পারে না।

এমন প্রেক্ষাপটে আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস। এ বছর দিবসটির মূল বার্তাÑ‘গর্ভনিরোধের ক্ষেত্রে বাধা নয়, প্রয়োজন ইনফরমড চয়েজ এবং সহজলভ্যতা’ অর্থাৎ প্রত্যেক নারী-পুরুষ যেন নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ ও উপযুক্ত পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ পান। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে। ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ‘পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে পরিবার পরিকল্পনার যেসব পদ্ধতি সম্পর্কে প্রচার চালানো হয়, তার মধ্যে দুটি বাদে বাকিগুলো নারীদের জন্য। জন্মনিয়ন্ত্রণে সাতটি আধুনিক পদ্ধতি আছে। এর মধ্যে নারীদের জন্য রয়েছে পাঁচটি পদ্ধতিÑখাবার বড়ি/পিল, ইনজেকশন/কপারটি আইইউডি, ইমপ্ল্যান্ট/চামড়ার নিচে বসানো ক্যাপসুল এবং সিজারারি বা টিউব লিগেশন)। আর পুরুষদের জন্য কনডম ও ভ্যাসেকটমি। এদিকে চাহিদার মাত্র ৩৭ শতাংশ জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরকার থেকে দেওয়া হয়। ৬০ শতাংশ বেসরকারি এবং বাকি ৩ শতাংশ এনজিওগুলো সরবরাহ করে থাকে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারীরা পুরুষের তুলনায় বেশি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করেন। নারীদের মধ্যে ৬২.৩ শতাংশ আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এর বিপরীতে মাত্র ১ শতাংশ নারী সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

জন্মনিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে তুলনা করে দেখা যায়, ২০-২৪ এবং ৩০-৩৪ বছর বয়সিদের মধ্যে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার সর্বাধিক (৬৭.৩ শতাংশ)। ১৫-৪৯ বছর বয়সের ৬৩.৩ শতাংশ বিবাহিত নারী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। ৩০-৩৪ বছর বয়সের নারীরা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন বেশি, যার মাত্রা ৬৮.২ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যানুযায়ী, প্রায় ২১ কোটি ৮০ লাখ নারী গর্ভনিরোধের প্রয়োজন অনুভব করেন। কিন্তু তাদের মধ্যে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ নারী এখনো কোনো নিরাপদ গর্ভনিরোধ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন না। ফলে অনিচ্ছাকৃত গর্ভাবস্থা, ঝুঁকিপূর্ণ প্রসব এবং মাতৃমৃত্যুর হার বাড়ে। বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস এই বৈষম্য দূর করতে চায়।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. মুনিরা ফেরদৌসী আমার দেশকে বলেন, কনডম প্রায় ৯৯ ভাগ ক্ষেত্রে গর্ভধারণ প্রতিরোধ করে। পাশাপাশি এটি যেকোনো ধরনের প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ ও যৌন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখে। অথচ কনডমের ব্যবহারের আগ্রহ পুরুষদের ভেতর অত্যন্ত কম।

তিনি আরো বলেন, কার্যকরী পরিবার পরিকল্পনা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ প্রতিরোধ করে এবং গর্ভপাতের হার কমায়। কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের প্রজনন স্বাস্থ্যের সক্রিয়ভাবে যত্ন নিতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সক্ষম করে তোলে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন