পলিসি ত্রুটির কারণে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত: কৃষিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার

পলিসি ত্রুটির কারণে কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত: কৃষিমন্ত্রী

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের কৃষি খাতের বর্তমান ত্রুটিপূর্ণ বিপণন ব্যবস্থা বা পলিসির কারণে মাঠপর্যায় থেকে সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনতে পারছে না। এতে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আর সুযোগ নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী দালাল চক্র।

মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বাংলাদেশে কৃষির টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমাদের কৃষকেরা বাজারে কোন পণ্যের কত চাহিদা রয়েছে সে বিষয়ে সঠিক তথ্য না পাওয়ায় একদিকে উৎপাদন পরিকল্পনায় অসামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে ভোক্তারাও ন্যায্য দামে পণ্য কিনতে পারছেন না। কৃষির টেকসই উন্নয়নে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থাকে একসঙ্গে আধুনিকায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের অপচয় কমানো এবং চাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার দেশব্যাপী কয়েক হাজার মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। এসব সংরক্ষণাগার চালু হলে কৃষক প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বাজারজাত করতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। বাজেটের বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে বিদ্যমান অর্থ দিয়েই কৃষিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার মধ্যে কৃষি খাতে ১০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকার ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থা কাটিয়ে উঠতে কৃষি খাতের আধুনিকায়ন অপরিহার্য। প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সংকট নিরসনে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষিকে টেকসই রাখতে জমি সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কার্যকর বিপণন ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত হিমাগারের অভাবে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য নষ্ট হচ্ছে, যা কমাতে নতুন কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, পশুর ভ্যাকসিন আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশেই উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পোল্ট্রি খাতে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সুশাসন ও জবাবদিহিতা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় দুর্নীতি ও স্বার্থান্বেষী প্রবণতা জায়গা পেলে জনগণ তা মেনে নেবে না। দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...