বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, মুসলিম হিসেবে প্রত্যেকেরই উচিত ইসলামের সুমহান দাওয়াতকে নিজের জীবনের মূল মিশন হিসেবে গ্রহণ করা। একই সঙ্গে দাওয়াতি কাজে আত্মনিয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত চরিত্রকে সুন্দর করে একটি আদর্শ ও কল্যাণময় সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি মঙ্গলবার ইসলামী দাওয়াহ সার্কেল মালয়েশিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ইসলামী দাওয়াহ সার্কেল মালয়েশিয়ার সভাপতি ড. আবু আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সেক্রেটারি সৈয়দ মোবাস্বীর হোসাইন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ড. ইউসুফ আলী ও হাফেজ এনামুল হক।
অনুষ্ঠানে কুয়ালালামপুর ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে আগত বাংলাদেশি ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং বিভিন্ন পেশার সাধারণ প্রবাসী পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মানুষের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়াই হলো দাওয়াত। এটি কেবল একটি কাজ নয়; বরং জীবনের একটি মহান মিশন। দাওয়াতকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করলে মানুষের চিন্তা, চরিত্র ও আচরণ ধীরে ধীরে পরিশুদ্ধ হয়। তিনি আরও বলেন, দাওয়াতের প্রথম প্রভাব পড়ে নিজের জীবনের ওপরই; এতে সততা, ধৈর্য, নম্রতা ও দায়িত্ববোধের মতো গুণাবলি বিকশিত হয়।
প্রবাসী পেশাজীবীদের মেধা, দক্ষতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি বৈষম্যহীন ও সুন্দর সমাজ গঠনে প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তারা চাইলে প্রবাসে শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে তুলতে পারেন এবং নিজ দেশের সামাজিক উন্নয়নেও কার্যকর অবদান রাখতে পারেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি প্রবাসীদের বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এতে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে প্রবাসী বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রবাস ফেরত নাগরিকদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট মহলকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে ড. আবু আবদুল্লাহ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, দাওয়াতি কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে ইসলামী দাওয়াহ সার্কেলের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
সবশেষে বক্তারা প্রবাসীদের নৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক ঐক্য এবং দাওয়াতি কাজকে আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম একটি সুন্দর ও কল্যাণময় সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

