জাতীয় সংসদে নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াত ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন।
অধিবেশনে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে নিজেদের অবস্থান, বর্তমান সংসদের বেশকিছু বিষয়ে লম্বা বক্তব্য দেন। এসময় রাজাকার-আলবদর প্রসঙ্গেও নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়ে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, আজকে আমাদের অনেক বেশি করে রাজাকার, আল বদর বলার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা যারা এখানে বসে আছি, আমরা কেউ রাজাকার বা আল-বদর ছিলাম না। আমরা জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নেতৃত্ব। যদি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা বলেন, তবে আমিও একজন 'শিশু মুক্তিযোদ্ধা'।
ডা. তাহের বলেন, আমার বাড়ি ছিল সীমান্তের কাছে। যারা ভারতে শরণার্থী হিসেবে যেত, তারা আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিত, আমরা তাদের নাস্তা খাওয়াতাম এবং সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে কিনা, তা পাহারা দিতাম। সেনাবাহিনী দূরে থাকলে আমরা তাদের পথ দেখিয়ে দিতাম, যাতে তারা নিরাপদে ভারতে পার হতে পারে। সুতরাং এ ধরনের দাবি করার অধিকার কারও নেই।
এ সময় তাহের আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় 'রাজাকার' মাওলানা নুরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় শাহ আজিজের মতো ব্যক্তিদের রাখার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
বক্তব্যের শেষ দিকে সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে সমঝোতা এবং সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, দেশের নীতির ব্যাপারে মতপার্থক্য থাকলে আমরা তার বিরোধিতা করি, কিন্তু দলে দলে এই রেষারেষি পরিবেশকে সুন্দর রাখবে না এবং এতে দেশ ও আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হব।
সংসদে ব্যবহৃত ভাষা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তাহের বলেন, গতকাল আমি শুনেছি মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাকি ‘তুই রাজাকার’ বলেছেন। সংসদের ভেতরে আমার মনে হয় এটি খুবই অরুচিকর ও অসংগত একটি শব্দ।
পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তাহের মন্তব্য করেন, শুধু দু-একটি শব্দ দিয়ে যদি আমরা একে অপরকে আক্রমণ করতে চাই, তবে আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি দেখা দেবে।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

