আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন

হাসিনার শাসনে ৬০০০ গুম

আবু সুফিয়ান

হাসিনার শাসনে ৬০০০ গুম

বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুম বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং একটি সুপরিকল্পিত, প্রাতিষ্ঠানিক ও রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যযুক্ত চর্চা, যার প্রকৃত পরিমাণ আনুষ্ঠানিক রেকর্ডের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। ‘জোরপূর্বক গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন’-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার হাজার থেকে প্রায় ছয় হাজার ব্যক্তি জোরপূর্বক গুমের শিকার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনে করা এক হাজার ৯১৩ অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের পর এক হাজার ৫৬৯টিকে জোরপূর্বক গুমের ‘সম্ভাব্য’ মামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা প্রকৃত সংখ্যার মাত্র এক-চতুর্থাংশ থেকে এক-তৃতীয়াংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনকে একটি ঐতিহাসিক কাজ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, মানুষ কত নিচে নামতে পারে, কত পৈশাচিক হতে পারে, কত বীভৎস হতে পারে-এটা তার ডকুমেন্টেশন।

বিজ্ঞাপন

গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি গতকাল রোববার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। বিকালে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস এবং সাজ্জাদ হোসেন। আরো উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া। আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

কমিশন জানায়, মোট এক হাজার ৯১৩ অভিযোগ গুম তদন্ত কমিশনে জমা পড়ে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে এক হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭ অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।

এখনো অনেকে অভিযোগ নিয়ে আসছেন জানিয়ে কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, ‘গুমের সংখ্যা চার থেকে ছয় হাজার হতে পারে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের মাধ্যমে আরো ভিকটিমের খোঁজ পাওয়া যায়, যারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, আমাদের সম্পর্কে জানেন না কিংবা অন্য দেশে চলে গেছেন। এমন অনেকেই আছেন, যাদের সঙ্গে আমরা নিজ থেকে যোগাযোগ করলেও তারা অনরেকর্ড কথা বলতে রাজি হননি।’

বলপূর্বক গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল বলে জানিয়েছেন কমিশনের সদস্যরা। তারা বলেন, আমরা যে তথ্য পেয়েছি তা দিয়ে প্রমাণিত যে, এটি পলিটিক্যালি মোটিভেটেড ক্রাইম।

প্রতিবেদন থেকে কমিশন জানায়, গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে যারা জীবিত ফিরেছেন, তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী, ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। যারা এখনো নিখোঁজ, তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।

হাইপ্রোফাইল গুমের ঘটনায় সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑবিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী আলম, জামায়াত নেতা সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম, সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের গুমের ঘটনা।

কমিশনের সদস্যরা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজে অনেকগুলো গুমের ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দেশদাতা। তাছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভারতে রেন্ডিশনের (আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া গোপনে হস্তান্তর) যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে এটি স্পষ্ট হয় যে, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশেই এগুলো হয়েছে।

অক্লান্ত পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের জন্য গুম তদন্ত কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক কাজ। জাতির পক্ষ থেকে আমি কমিশনের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনারা যে ঘটনা বর্ণনা করলেন, পৈশাচিক বলে যে শব্দ আছে বাংলায়, এককথায় বললে এ ঘটনাগুলোকে সে শব্দ দিয়েই বর্ণনা করা যায়। নৃশংস এ ঘটনার মধ্য দিয়ে যারা গেছেন, আপনারাও তাদের সঙ্গে কথা বলার মধ্য দিয়ে, তাদের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সে নৃশংস ঘটনাগুলো দেখেছেন। দৃঢ় মনোবল ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন করা যেত না।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানকে দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে গণতন্ত্রের লেবাস পরে মানুষের ওপর কী পৈশাচিক আচরণ করা যেতে পারে, সেটার ডকুমেন্টেশন এ রিপোর্ট। মানুষ কত নিচে নামতে পারে, কত পৈশাচিক হতে পারে, কত বীভৎস হতে পারে-এটা তার ডকুমেন্টেশন। যারা এ ভয়ংকর ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা আমাদের মতোই মানুষ। নৃশংসতম ঘটনা ঘটিয়ে তারা সমাজে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। জাতি হিসেবে এ ধরনের নৃশংসতা থেকে আমাদের চিরতরে বেরিয়ে আসতে হবে। এ নৃশংসতা যেন আর ফিরতে না পারে, সে প্রতিকারের পথ খুঁজে বের করতে হবে।’

রিপোর্টগুলো সহজ ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া কমিশনকে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা ও ভবিষ্যতের করণীয় পেশ করার বিষয়েও নির্দেশ দেন তিনি।

এছাড়া আয়নাঘরের পাশাপাশি যেসব জায়গায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে, সে জায়গাগুলো ম্যাপিং করতে নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা।

কমিশন জানায়, তদন্ত অনুযায়ী বরিশালের বলেশ্বর নদীতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে। গুমের শিকার শত শত ব্যক্তিকে হত্যা করে এ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদী এবং মুন্সীগঞ্জেও গুম করা ব্যক্তিদের লাশ ফেলার প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে।

এদিন প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান গুম তদন্ত কমিশনের সদস্যরা। প্রধান উপদেষ্টার দৃঢ় অবস্থান ছাড়া এ কাজ সম্পন্ন হতো না উল্লেখ করে তারা জানান, আপনি দৃঢ় ছিলেন বলেই আমরা পেরেছি। আপনি সবসময় আমাদের যা কিছু প্রয়োজন ছিল, সে সহায়তা দিয়েছেন। আপনিই আমাদের মনোবল দৃঢ় করেছেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুর্নগঠন করে এ কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে তারা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান এবং ভিকটিমদের সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।

গুম কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে কমিশন চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, ‘দেশে বিভিন্ন সময় জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে আমরা দীর্ঘ এক বছর তিন মাস ধরে কাজ করেছি। প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনে আমাদের টিম নিরলসভাবে কাজ করেছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আমরা পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হস্তান্তর করেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, আমরা আশা করি সরকার আমাদের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে, যেন গুমের শিকার পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পায়।

অভিযোগের হিসাব-নিকাশ

প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিশনে দায়ের হওয়া এক হাজার ৫৬৯টি যাচাই-বাছাইকৃত অভিযোগের মধ্যে এক হাজার ২৮২ জন আইনবহির্ভূত হেফাজতের পর পুনরাবির্ভূত হয়েছেন। অপরদিকে ২৮৭ জনের মৃত্যুর স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, যার মধ্যে ২৫১ জন চিরতরে নিখোঁজ এবং ৩৬ জনের দেহ ‘ক্রসফায়ার’ বা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে। প্রতি ছয়জনে একজন গুমের শিকার আজও নিখোঁজ। শিকারদের ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশই পুরুষ। তবে সামাজিক ভয় ও লজ্জার কারণে নারী গুমের বিষয়ে অনেক কম রিপোর্ট হয়েছে।

রাজনৈতিক টার্গেটিং স্পষ্ট

গুমের শিকারদের রাজনৈতিক পরিচয় বিশ্লেষণে চরম পক্ষপাতের চিত্র ফুটে উঠেছে। যাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে (৯৪৮ জন), তাদের মধ্যে ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশই বিভিন্ন বিরোধী দল ও এর সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। গুমের শিকার তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত মাত্র একজনের কথা উল্লেখ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গুমের ঘটনা রাজনৈতিক চাপ ও নির্বাচনি পরিস্থিতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ২০০৯ সালের ১০টি ঘটনা থেকে সংখ্যা বেড়ে ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ ২১৫-এ পৌঁছায়। ২০১৩ সালে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষকালে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে গুমের সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৬ সালের হলি আর্টিসান হামলার পর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে গুমের অপব্যবহারের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে ২০১৭ সালের পর থেকে স্থায়ী গুমের বদলে আটক রেখে পরে ফেরত দেওয়ার প্রবণতা বাড়ে।

কারা দায়ী

অভিযোগের ২৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই দায়ী করা হয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব)। পুলিশ দায়ী ২৩ শতাংশ ক্ষেত্রে এবং ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) । ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের নাম কম উল্লেখ থাকলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের কঠোর গোপনীয়তার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই শিকাররা সংস্থার নাম চিনতে পারেননি। ৭ দশমিক ৬ শতাংশ অভিযোগে ‘প্রশাসনের লোক’ নামে অস্পষ্ট পরিচয়ের ব্যক্তিরা অপহরণ করেছে বলে উল্লেখ আছে। র‌্যাব, ডিবি ও পুলিশের মধ্যে যৌথ অপারেশনও লক্ষণীয়, যা বিচ্ছিন্ন ঘটনার বদলে সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক চর্চার ইঙ্গিত দেয়।

জটিলতা ও মানবিক ট্র্যাজেডি

এক হাজার ৬৮২টি অন্যান্য অভিযোগের মধ্যে ১১৩টিকে জোরপূর্বক গুমের সংজ্ঞায় আনা যায়নি। একটি উদাহরণে বলা হয়, এক যুবকের চরমপন্থি প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও র‌্যাব গোয়েন্দারা পরিবারকে বিভ্রান্ত করে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করতে উৎসাহিত করে। এর ফলে পরিবারটি দীর্ঘকাল অনিশ্চয়তায় ভোগে। যুবকের বোন কমিশনকে বলেন, রাস্তায় আমি আমার ছোট ভাইয়ের মতো দেখতে প্রতিটি পুরুষকে গভীরভাবে পরীক্ষা করি, যদি সে-ই হয়। এমনকি একটি গুমের মামলায় কবর খুঁড়ে ডিএনএ পরীক্ষায় সম্পূর্ণ অন্য একজনের দেহাবশেষ পাওয়া যায়।

সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা

প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘ সময়, ব্যাপকতা ও অভিযোজন ক্ষমতার কারণে এ গুমের চর্চা কোনো দুর্ঘটনা বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি উচ্চ রাজনৈতিক পর্যায়ের জ্ঞান ও ছাড়পত্র ছাড়া টিকে থাকতে পারত না। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও এজেন্সিগুলোর মধ্যে সমন্বয় এ ব্যবস্থাকে সম্ভব করেছিল।

কমিশনের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ যুগের জোরপূর্বক গুমগুলোকে বিকৃতি হিসাবে নয়; বরং শাসনের হাতিয়ার হিসেবে সর্বোত্তমভাবে বোঝা যায়।

তদন্ত কমিশনের এ প্রতিবেদন বাংলাদেশে জোরপূর্বক গুমকে একটি ভয়াবহ, সুসংগঠিত ও রাজনৈতিকভাবে প্রণোদিত প্রাতিষ্ঠানিক সন্ত্রাস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এ থেকে মুক্তি পেতে জরুরি ভিত্তিতে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বছরের ৪ জুন গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে দ্বিতীয় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়। তারও আগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রথম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। এতে বলা হয়, দেশে গত ১৫ বছরে সংঘটিত বিভিন্ন গুমের ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসেবে শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। এছাড়া গুমের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশ করা হয়েছিল ওই প্রতিবেদনে, যাদের মধ্যে রয়েছেনÑতারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক এনটিএমসি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসান, পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন