চট্টগ্রামে চরম অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার শিকার হয়েছেন ঢাকা থেকে আসা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও তদন্ত কর্মকর্তারা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ঢোকার পর কোনো ধরনের প্রটোকল পাননি তারা। এমনকি তাদের থাকার ব্যবস্থা ছিল নিম্নপর্যায়ের।
বৃহস্পতিবার শহরের নিউমার্কেটে ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর ও তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তখন তারা চট্টগ্রাম প্রশাসনের বিরুদ্ধে এসব অসন্তোষের কথা জানান।
জুলাই অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে ঘটা মানবতা বিরোধী অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের দু’জন প্রসিকিউটর ও দু’জন তদন্তকারী কর্মকর্তা চট্টগ্রামে এসেছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় তারা ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের টিমের সদস্যরা জানান, তারা আসার পথে নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও কুমিল্লায় প্রটোকল পেয়েছেন। কিন্তু চট্টগ্রামে ঢোকার পরও কোনো প্রটোকল পাননি। অথচ পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসনকে দুটি আলাদা করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা বলছেন, নিরাপত্তার জন্য প্রটোকল আরও অনেক বেশি প্রয়োজন ছিল। কারণ অনেক কিছু ঘটতে পারতো।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল টিম চট্টগ্রামে পৌছেন দুপুর আড়াইটায়। ওইসময়ও কোনো প্রটোকল ছিল না।জেলা প্রশাসনের সঙ্গে নিজেরা যোগাযোগ করে যান বন্দর থানার সল্টগোলা ক্রসিং এলাকার ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে। সেখানে থেকে আবার ঘুরে তারা যান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যালয়ে। তারপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল টিম প্রটোকল পান বলে জানান তারা।
শুধু প্রটোকল নয়, থাকার ব্যবস্থাও ছিল খুবই নিম্ন পর্যায়ের। টিমে দুজন প্রসিকিউটর হলেন- মো. সাইমুম রেজা তালুকদার ও আব্দুল্লাহ আল নোমান। দু’জনই অ্যাসিসটেন্ট অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদার। তদন্ত কর্মকর্তারা হলেন-পুলিশের এডিশনাল এসপি মো. জহিরুল ইসলাম ও পরিদর্শক মোহাম্মদ মশিউর রহমান। এই চারজনের পদমর্যাদা অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের সার্কিট হাউজ বা জেলা পরিষদের ডাক বাংলোতে রাখার কথা। কিন্তু দু’জন প্রসিকিউটরকে রাখা হয় ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে। যেখান থেকে শহরে আসতে দেড় ঘণ্টা সময় লেগেছে। ফলে তাদের কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল তদন্ত টিমের পুলিশের ওই দু’জনকে রাখা হয়েছে পুলিশের ব্যবস্থাপনায় একটি জায়গায়। সেটি নিয়েও তাদেরমধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। যদিও এসব নিয়ে সরাসরি মিডিয়ায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা। তবে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা আমার দেশকে জানান, তারা-তো সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করতে এসেছেন। প্রটোকল না থাকায় তারা হামলার শিকারও হতে পারতেন।
এই বিষয়ে জানতে পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, অ্যাডিশনার পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) মো. আসফিকুজ্জামান আকতার, এমনকি পুলিশের মুখপাত্রকে কল দিলেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
থাকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মো. আল আমিন হোসেন আমার দেশকে বলেন, সার্কিট হাউজ, ডাক বাংলোসহ প্রায় রেস্ট হাউজ বুকিং ছিল। সেজন্য ওনাদের কাছাকাছি জায়গায় রাখা যায়নি।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটর ও তদন্ত কর্মকর্তারা ৩০জন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছেন। বিভিন্ন আলামতও সংগ্রহ করেছেন তারা।
এমএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

