ইসলামি স্কলার ও আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, ১৫০০ টাকার ইমাম এখন মাসে ৪৫ হাজার টাকা উপার্জনকারী উদ্যোক্তা। রোববার (১৯ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পোস্টে তিনি বলেন, ‘কুড়িগ্রাম সদরের ভেরভেরি গ্রামের এক পরিশ্রমী ইমাম সিদ্দিকুর রহমান এই বিস্ময়কর সাফল্যের জন্ম দিয়েছেন। শুধু সিদ্দিকুর রহমান নয়, তার মতো এমন অসংখ্য আলেম-ইমামের সৃজনশীল উদ্যোগ এদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
কিছুদিন আগেও সিদ্দিকুর রহমান মাসিক ১৫০০ টাকা বেতনে ইমামতি করতেন। সাথে মক্তব পড়িয়ে পেতেন ১ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তার মাসিক আয় ছিল ২৫০০ টাকা।
কিন্তু এই সামান্য আয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ অসম্ভব হয়ে পড়লে তিনি ইমামতির পাশাপাশি একটি নার্সারিতে কাজ শুরু করেন।
দীর্ঘ তিন বছরের পরিশ্রমে ধীরে ধীরে তিনি নার্সারির কাজে দক্ষ হয়ে ওঠেন। তিনি শিখে যান বীজ নির্বাচন, বীজ শোধন, বীজতলা তৈরি, বীজ বপন, সেচ প্রদান, ছায়া ও সুরক্ষা সহ পরিচর্যার নানা সূক্ষ্ম কৌশল।
সে সময় তিনি ওই নার্সারি থেকেই পাইকারি চারা কিনে অনলাইনে বিক্রি শুরু করেন। এভাবে একই সাথে তিনি উৎপাদন ও বিপণনে অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন।
এরপর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পাটাতনের ওপর ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে তার স্বপ্নের পৃথিবী। মনে মনে নিজের মতো করে একটি বড় নার্সারি গড়ার স্বপ্ন বুনতে থাকেন তিনি।
এ সময় তার স্বপ্নের সারথি হয় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। দক্ষতাভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি প্রকল্প থেকে তাকে দেয়া হয় ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। আল্লাহর রহমত এবং আস-সুন্নাহর সহযোগিতায় তিনি প্রতিষ্ঠা করেন একটি নার্সারি। নাম : সাবাহ এগ্রো ভ্যালি।
এই নার্সারিতে বিভিন্ন ধরনের সবজির চারা, যেমন : টমেটো, বেগুন, মরিচ, পেঁপে, ফুলকপি, পাতাকপি, লাউ ইত্যাদি উৎপাদন করেন তিনি।
বর্তমানে তিনি অনলাইনে ফেসবুক মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়ও চারা ডেলিভারি দিয়ে থাকেন।
১৫০০ টাকা বেতনের সেই ইমাম আজ নার্সারি থেকে ভরা মৌসুমে মাসে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা আয় করছেন। মৌসুমের বাইরে উপার্জন করছেন ২০ হাজার টাকা।
সিদ্দিকুর রহমানের এই অভাবনীয় সাফল্যে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন গর্বিত এবং আনন্দিত ।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

