বান্দরবানের থানচি উপজেলায় এক বাঙালি মোটরবাইক চালক ও এক পাহাড়ি নারী যাত্রীকে পথরোধ করে অপহরণ ও মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পাহাড়ি সংগঠন জেএসএস (সন্তু) সমর্থিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর এক নেতার নেতৃত্বে এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটেছে বলে স্থানীয় ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ এপ্রিল (সোমবার) বিকেলে রুমা উপজেলার বাসিন্দা বাঙালি বাইক রাইডার মিন্টু বড়ুয়া (প্রকাশ রুবেল বড়ুয়া) একই উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের বাসিন্দা মিচুনিং মারমাকে নিয়ে থানচি ভ্রমণে আসেন। বিকেল ৪টার দিকে থানচি-বাকলাই সড়কের ২ কিলো পর্যটন এলাকায় পৌঁছালে ১০-১২ জন উপজাতি যুবক তাদের গতিরোধ করে।
একজন পাহাড়ি নারী কেন বাঙালির বাইকে ঘুরে বেড়াচ্ছে— এমন প্রশ্ন তুলে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করা হয়। একপর্যায়ে তাদের জোরপূর্বক চাকু পাড়া সংলগ্ন একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সারা রাত আটকে রেখে তাদের ওপর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অমানবিক প্রহার চালানো হয়। পরদিন ২১ এপ্রিল সকালে কোনো প্রেমের সম্পর্কের প্রমাণ না পাওয়ায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কিছু না জানানোর শর্তে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী লোকাল বাসযোগে বান্দরবান যাওয়ার পথে বিজিবির ৩৮ ব্যাটালিয়নের বলিপাড়া চেকপোস্টে বিষয়টি জানাজানি হয়। বিজিবির সহযোগিতায় থানচি থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নারীর শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া না গেলেও পিঠে ও শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী দুজনই চরম মানসিক ট্রমা ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অভিযুক্তদের পরিচয়
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি রেংহাই ম্রো (৩০), পিতা: মা পং ম্রো। তিনি থানচি উপজেলা পিসিপি-র অর্থ বিষয়ক সম্পাদক এবং এনজিও ‘ব্রাক’-এর মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত। ঘটনার সাথে আরও জড়িত ছিলেন থানচি বাজারের অগ্যা মারমা (২২) ও আমতলী পাড়ার উসাই মারমাসহ আরও কয়েকজন সক্রিয় কর্মী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেংহাই ম্রো চরম বাঙালি বিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত। এর আগেও গত সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরে বাঙালি চালককে নির্যাতন ও রিসোর্ট ম্যানেজারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবির মতো একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার নাম উঠে এসেছিল।
সন্ত্রাসীদের চরম ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে রয়েছেন ভুক্তভোগীরা। মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা জাতীয়, স্থানীয় ও আঞ্চলিক সংগঠনগুলো রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে। পার্বত্য অঞ্চলে উপজাতি সংগঠনগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার, উগ্র সাম্প্রদায়িক মনোভাব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই বারবার এমন ঘটনা ঘটছে। পর্যটন এলাকায় এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম চললে ভবিষ্যতে পর্যটন খাত মুখ থুবড়ে পড়ার পাশাপাশি পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতির সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকার শান্তি বজায় রাখতে অবিলম্বে চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

