আগামী শনিবার বিকালের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তী সময়ে এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। নিম্নচাপটি শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, আগামী শনিবার বিকালের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। পরে এটি শক্তি সঞ্চয় করে নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তা সাগরে সিস্টেমটি তৈরি হওয়ার পর এর গতিপথ ও শক্তি পর্যবেক্ষণ করেই বলা সম্ভব হবে। লঘুচাপটি কোন দিকে অগ্রসর হয় এবং বাংলাদেশের উপকূলে এর প্রভাব পড়ে কি না, সেটিও পরে স্পষ্ট হবে।
এদিকে পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। দেশের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে সর্বোচ্চ ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে, ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবারের মধ্যে উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। পরে এটি ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
এতে শুক্রবার রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আগামী শনিবার দেশের আট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। তবে পরবর্তী পাঁচ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক বলেন, নভেম্বরের আগ পর্যন্ত দেশে কমবেশি বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি থাকতে পারে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর—এই তিন মাসে বঙ্গোপসাগরে চার থেকে ছয়টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম এবং তাপমাত্রা বেশি থাকতে পারে।
তবে সম্ভাব্য লঘুচাপ নিয়ে এখনই আতঙ্কিত না হয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


