ঠিকাদার উধাও

অষ্টগ্রামে বন্ধ ১৭৮ কোটি টাকার সেতু নির্মাণ

অষ্টগ্রামে বন্ধ ১৭৮ কোটি টাকার সেতু নির্মাণ
মেঘনা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর পিলার।

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলায় মেঘনা নদীর ওপর নির্মাণাধীন বহুল প্রতীক্ষিত ‘বাঙালপাড়া-চাতলপাড় সেতু’-এর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এক কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৭৮ কোটি টাকা। তবে প্রকল্পের বড় অংশ অসমাপ্ত রেখেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন উধাও হয়ে যাওয়ায় চরম হতাশায় হাওড়াঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষ।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার বাঙালপাড়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের দুর্গাপুর পর্যন্ত মেঘনা নদীর ওপর এই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মানিক মিয়া আত্মগোপনে চলে গেলে কাজে স্থবিরতা নেমে আসে। একপর্যায়ে কাজের অগ্রগতি থমকে যায় এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী গুটিয়ে নিয়ে গোপনে সাইট ত্যাগ করে। বর্তমানে নদীর বুকে কেবল কয়েকটি অসমাপ্ত পিলার দাঁড়িয়ে আছে, যা হাওড়বাসীর স্বপ্নভঙ্গের স্মারক হয়ে আছে।

এর ফলে বর্ষায় উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিতে ট্রলার বা নৌকাই এখনো একমাত্র ভরসা। আবার শুষ্ক মৌসুমেও খেয়া পার হতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও সংকটাপন্ন রোগীদের। এতে জেলা সদর, রাজধানীসহ সারা দেশের সঙ্গে সড়কপথের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ক্ষেত্রে হাওড়বাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোশারফ হোসেন মাস্টার জানান, এই সেতু কেবল দুটি জেলার সংযোগস্থল নয়, এটি পুরো হাওড়বাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। সেতুটির কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার কৃষিপণ্য সহজে সারা দেশে পৌঁছাবে, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের পাশাপাশি পর্যটন খাতেও অভাবনীয় পরিবর্তন আসবে।

কাজের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তি ভঙ্গ করে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে গেছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার জন্য নতুন করে দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক সব অনুমোদন সম্পন্ন করে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে বলে আশা করছি।

এদিকে, হাওড়াঞ্চলের সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে পুনরায় কাজ শুরু করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় এমপি ফজলুর রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন