বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি))-এর নতুন প্রধান হিসেবে অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
বুধবার সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা ও বরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সদ্য বিদায়ী প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ-কে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
দায়িত্ব গ্রহণ করে মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ সিআইডিকে একটি ‘এপেক্স ইনভেস্টিগেশন ইউনিট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সিআইডির অর্জিত সুনাম ধরে রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে এবং প্রতিটি সদস্যের সমন্বিত প্রচেষ্টাই সাফল্যের চাবিকাঠি।
১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদানকারী তিনি এর আগে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন শাখায় অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ডিএমপি ও সিএমপি-তে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন এবং কুষ্টিয়া, ভোলা ও শেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জাতিসংঘের UNAMID মিশনেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
নতুন প্রধান তার বক্তব্যে সততা ও পেশাদারিত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলা বা অনাগ্রহী কারও জন্য সিআইডিতে স্থান নেই। দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকলেও দায়িত্বশীলতার বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিদায়ী প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় প্রায় ৬০০ মামলা পেন্ডিং থাকলেও তা কমিয়ে প্রায় ৫০-এ নামিয়ে আনা হয়েছে। তিনি তদন্তে ক্রাইম সিন প্রটেকশন ও ফিজিক্যাল এভিডেন্স সংগ্রহের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তার দায়িত্বকালে সিআইডিতে মেডিকেল সেন্টার স্থাপন, আধুনিক সফটওয়্যার সংযোজন, ছয়টি আঞ্চলিক ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ এবং ৭৪টি ক্রাইম সিন ইউনিট গঠনের প্রস্তাব নেওয়া হয়। এছাড়া ‘ওয়ান স্টপ কল সেন্টার’ চালু এবং ডিডিও-শিপ বাস্তবায়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ সিআইডির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সশরীরে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা অনলাইনে অংশগ্রহণ করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

