সারাদেশে বৃষ্টি হচ্ছে; সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে। শ্রাবণের এই বৃষ্টিধারা আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদদপ্তর।
আজ বুধবার সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকা ও আশাপাশের এলাকার আকাশ মেঘলা ছিল । বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশজুড়ে কালোমেঘে ছেয়ে যায়; দুপুরে আগে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হলেও দুপুরের পর মুষলধারে বৃষ্টিতে ভিজেছে গোটা রাজধানী।
এখনো আকাশ মেঘলা; আবহাওয়া দপ্তর বলছে, বিকাল ৩টা পর্যন্ত রাজধানীতে ২১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আগের কয়েকদিনের তুলনায় আজ ও আগামীকাল রাজধানীতে বেশি বৃষ্টি হতে পারে। এ বৃষ্টির ধারা কয়েকদিন থাকতে পারে।
এর আগে মঙ্গলবার আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তায় বলা হয়, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আজ বুধবার সকাল থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘন্টায় বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধ্বস হতে পারে।
তবে এর আগের দিন অবশ্য আরেকটি সতর্কবার্তা জানানো হয়েছিল দেশের সাত বিভাগেই ভারীবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা। ৪৮ ঘন্টার পার হওয়ার আগেই সংস্থাটি শুধু বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা জারি করে।
সংস্থাটির ভাষায় ২৪ ঘন্টায় দেশের কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা ভারী এবং তারও বেশি বৃষ্টিপাত হলে তা অতিভারী বৃষ্টি বলে গণ্য করা হয়।
এদিকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত আবহাওয়া দপ্তরের আগের ২৪ ঘন্টার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে নোয়াখালীর হাতিয়ায় ৫০ মিলিমিটার। এসময় রাজধানীতে ৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও সকাল ছয়টার পর থেকে বিকাল পর্যন্ত কয়েক দফা মুষলধারে বৃষ্টি হয়ে গেছে। আবহাওয়াদপ্তর বলছে আগামীকাল পর্যন্ত রাজধানীতে বৃষ্টি হতে পারে। এরপর থেকে বৃষ্টি কমে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি বৃষ্টিপাতের ধারা শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক।
এদিকে স্বল্প সময়ের বৃষ্টিতেই রাজধানীর অধিকাংশ সড়কে জলাবদ্ধতায় ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। নগরীর বেশির ভাগ সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে বরাবরের মতোই ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। বৃষ্টিতে ফুটপাতের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন। বৃষ্টির কারণে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানজটে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং রিকশা ও সিএনজি চালকরা বাড়তি ভাড়া দাবি করায় সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অফিস ছুটির পর ঘরমুখো মানুষকে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

