জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুই ভাগ করে জারি করা অধ্যাদেশের সংশোধনী উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা’ বিভাগের শীর্ষ পদে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগের বিধান রাখাসহ মোট ১১টি সংশোধন আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এসব অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ও সিনিয়র সহরকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।
রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুমোদনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশোধিত অধ্যাদেশে পূর্বে জারিকৃত অধ্যাদেশের ১১টি ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধিত অধ্যাদেশে রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ দুটির সচিবসহ অন্যান্য পদসমূহে কোন সুনির্দিষ্ট ক্যাডারের কর্মকর্তার পরিবর্তে বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন কর্মকর্তাদের পদায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, রাজস্ব নীতি বিভাগের সচিব পদে সামষ্টিক অর্থনীতি, বাণিজ্য নীতি, পরিকল্পনা, রাজস্ব নীতি বা রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কাজে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যে কোন সরকারি কর্মচারীকে নিয়োগ করার বিধান করা হয়েছে। অপরদিকে রাজস্ব আহরণ সংক্রান্ত কাজে অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন যোগ্য কোনো সরকারি কর্মচারীকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব পদে নিয়োগ করার বিধান রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাজস্ব নীতি বিভাগের আয়কর নীতি, দ্বৈতকর পরিহার চুক্তি, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও মতামত, শুল্ক নীতি, মূল্য সংযোজন কর নীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কাস্টমস সংক্রান্ত চুক্তি অনুবিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের আয়কর, মূল্য সংযোজন কর, কাস্টমস আইন বাস্তবায়ন এবং মাঠ পর্যায়ের মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগের বিভিন্ন পদ রাজস্ব আহরণ সংক্রান্ত কাজে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে পুণ্যযোগ হবে।
গত ১২ মে রাতে এনবিআর বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অধ্যাদেশ জারি করে সরকার। পরদিন থেকে অবস্থান ও কলম-বিরতিসহ টানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন দেশের প্রধান রাজস্ব আহরণকারী সংস্থাটির কর্মীরা। তাদের দাবি ছিল, প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পদে প্রশাসন ক্যাডার থেকে আসা সচিবদের যেন না বসানো হয়। এর পরিবর্তে বিসিএস (কর) ও বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের অভিজ্ঞদেরকেই যেন নিয়োগ দেওয়া হয়।
এনবিআর সংস্কার নিয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে মার্চ টু এনবিআরসহ বিভিন্ন চাকরি-বিধি লঙ্ঘনের কর্মসূচি দিয়েছিলেন কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যেই ২০ জনেরও বেশি কর্মকর্তাকে বিধি লঙ্ঘের দায়ে অবসরে পাঠানো হয়েছে। এখন অধ্যাদেশটির সংশোধন অনুমোদনের মাধ্যমে এনবিআরে কয়েক মাসের মতবিরোধের অবসান ঘটল বলে মনে কলা হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

