আলেমরা দেশ ও ইসলামের জন্য যুগে যুগে আত্মত্যাগ করে গেছেন, সেই সংগ্রামে তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরার ফ্রেন্ডস ক্লাব মাঠে বৃহত্তর উত্তরা উলামা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত শাপলা থেকে জুলাই বিপ্লবে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং ভারতীয় আগ্রাসন মোকাবিলায় উলামায়ে কেরামের করণীয় শীর্ষক আলোচনা ও হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির আপসহীন কারা নির্যাতিত আলেমদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমার দেশ সম্পাদক এ মন্তব্য করেন।
১৪১৫ সালের সুফি নূর কুতুব আলমের পৃষ্ঠপোষকতায় সুলতান জালাল উদ্দীনের শাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, আলেম সমাজ কোনো দিনও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য লড়াই করেনি, তারা বাতিলের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন দেশ ও ইসলামের জন্য। এ ক্ষেত্রে তিনি বালাকোটের শহীদ সৈয়দ আহমদ বেরলভী, ফকির বিদ্রোহের শহীদ ফকির মজনু শাহ ও বাঁশের কেল্লার শহীদ তিতুমীরের আত্মত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন।
আমার দেশ সম্পাদক বলেন, গত ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আলেমদের লড়াই এবং জুলাই বিপ্লবে তরুণদের আত্মত্যাগ একসূত্রে গাঁথা। ভবিষ্যতে যাতে আর কখনো ভারতীয় দালালরা ক্ষমতায় না আসতে পারে সেজন্য আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার গণহত্যার কথা তুলে ধরে সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, আর যাতে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, এজন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে।
জুলাই বিপ্লবে মাদরাসা ছাত্রদের অবদানের কথা উল্লেখ করে আমার দেশ সম্পাদক বলেন, জুলাই বিপ্লবে মাদরাসা ছাত্রদের অবদান ছিল অপরিসীম। ১০০ জনের মতো মাদরাসা ছাত্র শহীদ হয়েছেন। ২০১৩ সালেও মাদরাসা ছাত্ররা জীবন দিয়েছেন হাসিনাবিরোধী আন্দোলনে। কিন্তু তাদের অবদানের স্বীকৃতি খুব কমই দেখতে পাই।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেন, ইসলাম বিপন্ন হলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। তাই ভারতীয় আগ্রাসনের শিকড় ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ আমাদের সংবিধান থেকে উৎখাত করতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে ভারতীয় আগ্রাসন মোকাবিলার আহ্বান জানাই। ঐক্যে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের কোনোভাবে ছাড় দেওয়া হবে না।
মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ বলেন, ভারত আবারও পলাতক হাসিনাকে পুনর্বাসন করতে চায়। যারাই তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করবে তাদের রুখে দেওয়া হবে।
মাওলানা মনির হোসেন কাসেমী বলেন, মাহমুদুর রহমান সময়মতো কলম না ধরলে হয়তো আমাদের এখনো ভারতীয় তাঁবেদার ফ্যাসিবাদের জুলুম-নির্যাতনের অধীনে থাকতে হতো। চোর চোর বলায় কুষ্টিয়ার আদালত চত্বরে কীভাবে তাকে রক্তাক্ত হতে হয়েছে তা বিশ্ববাসী দেখেছে। ভারতীয় আগ্রাসন ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সময়মতো অবদানের জন্য আলেম সমাজ তার প্রতি কৃতজ্ঞ।
আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আলেম সমাজের কলিজার টুকরা উল্লেখ করে মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী বলেন, আমরা মাহমুদুর রহমানকে অন্তর থেকে ভালোবাসি, তিনি ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনের অগ্রসেনাপতি।
সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা আল্লামা শেখ আজিমুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাওলানা আব্দুল হামিদ মধুপুরী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদি, মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, ড. আহমদ আব্দুল কাদের, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মুফতি হারুন ইজহার, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, মুফতি হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী, মুফতি বশিরুল্লাহ, মুফতি আজহারুল ইসলাম, মাওলানা গাজী ইয়াকুব ওসমানী, মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়জী, মুফতি ফখরুল ইসলাম, মাওলানা ইলিয়াস হামিদী, মাওলানা সিদ্দিকুল ইসলাম তোফায়েল, মুফতি নূর হোসাইন নূরানী, মাওলানা জোবায়ের আহমদ, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অর্ধ শতাধিক মজলুম আলেমকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তব্য দেন মুফতি কামালুদ্দীন, মাওলানা আবু সালেহ রহমানী, মুফতি নেয়ামতুল্লাহ আমিন প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

