সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। শুক্রবার সকালে বিভিন্ন জেলায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ আদায় শেষে পশু কুরবানীর করে ঈদ উদযাপন করছেন।
প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ-
চাঁদপুর
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ১৮টি গ্রামে শুক্রবার ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হয়েছে।
ঈদ উদ্যাপনকারীরা বলছেন, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে চাঁদের অবস্থান জেনে এবং সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি দেশে চাঁদ দেখার খবর পেয়ে শুক্রবার ঈদুল আজহা উদ্যাপন করছেন তারা।
শুক্রবার মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের পাঁচআনী, দেওয়ান কান্দি, সাড়ে পাঁচআনী, আইঠাদি পাঁচআনী, গায়েবি মাজার জামে মসজিদ, বাহেরচর পাঁচআনী, লতুর্দী, সাতানী ও দক্ষিণ মাথাভাঙ্গার আংশিক, সাদুল্যাপুর ইউনিয়নের আমিয়াপুর গ্রামের একাংশ, ইসলামবাদ ইউনিয়নের মধ্য ইসলামবাদ গ্রামের একাংশ, ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের একাংশ, এখলাছপুর ইউনিয়নের মধ্য এখলাছপুর (বড়ইকান্দি) গ্রামের একাংশ এবং ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের ফরাজীকান্দি, রামদাশপুর, চরমাছুয়া, হাজিপুর, দক্ষিণ রামপুর, সরকারপাড়া ও ঠাকুরপাড়া গ্রামগুলোর একাংশ মুসলমানরা পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপন করেন।

দেওয়ানকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদুল আজহার প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৮টায়। সাড়ে পাঁচআনী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে। আইঠাদি পাঁচআনী গায়েবি মাজার জামে মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯টায়।
মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি বোরহান উদ্দিন ডালিম বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রামের মির্জাখিল দরবার শরীফের অনুসারী হিসাবেই সৌদিসহ অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রের সঙ্গে মিল রেখে বিগত বছরগুলোর মতো এবারও ঈদুল আজহা উদ্যাপন করছি।’
সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভাড়ুখালী আহলে সুন্নাত আল জামায়াত জামে মসজিদে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মাহবুবুর রহমান। একই সময়ে বাওখোলা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ইমামতি করেন মাওলানা মো. মোহাব্বত আলী।
ইসলামকাটি, গোয়ালচত্বর, ভাদড়া, ঘোনা, মিরগিডাঙ্গাসহ আশপাশের অন্তত ২০টি গ্রামের মুসল্লিরা এসব জামাতে অংশ নেন। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও ঈদের জামাতে শরিক হন।
স্থানীয় মুসল্লি রবিউল ইসলাম জানান, সাতক্ষীরা জেলায় ২০টির অধিক গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করা হচ্ছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ম অনুসরণ করে আসছেন এবং আগামীতেও তা অব্যাহত থাকবে।
চাঁদপুর
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে কয়েকটি গ্রামে আজ শুক্রবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। এরা মূলত: চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের সাদ্রা দরবার শরীফের অনুসারী। তারা ১৯২৮ সাল থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল আজহাসহ ইসলামী বিধানগুলো উদযাপন করে আসছে।
ঈদুল আজহার প্রথম জামাত সকাল ৮টায় সাদ্রা ঈদগাঁ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের জামাতের ইমামতি করেন মাওলানা যাকারিয়া আল মাদানি।
সবচেয়ে বড় জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সোয়া ৮টায় সাদ্রা হামিদিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদরাসা মাঠে। এতে ইমামতি করেন মাওলানা আরিফুর রহমান সাদ্রাভী।
এ ছাড়াও হাজীগঞ্জের সমেশপুর, বলাখালসহ কয়েকটি গ্রামে পবিত্র ঈদুল আজহার জামায়াত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার কয়েকটি গ্রামে মাওলানা ইছহাক চৌধুরীর অনুসারীরা একদিন আগে ঈদ উদযাপন করেন।
দিনাজপুর
অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দিনাজপুর সদর উপজেলাসহ জেলার ৬টি উপজেলায় আজ শুক্রবার (৯ জুন ২০২৫) ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিদের একটি অংশ। দিনাজপুর শহরের চারুবাবুর মোড়স্থ পার্টি সেন্টারে, চিরিরবন্দর, কাহারোল, বোচাগঞ্জ, বিরল ও বিরামপুর উপজেলায় আগাম ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েকশ’ পরিবারের মানুষ ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন।
শুক্রবার (৯ জুন ২০২৫) সকাল ৮টায় দিনাজপুর শহরের চারুবাবুর মোড়স্থ পার্টি সেন্টারে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন দিনাজপুর শহর ও শহরতলীর কয়েকটি এলাকার মানুষ। এই জামাতে পুরুষ, মহিলা ও শিশুসহ প্রায় ৩০০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। এই জামাতে ইমামতি করেন দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার মহেশপুর গ্রামে অবস্থিত ফ্যামিলি কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার প্রতিষ্ঠা পরিচালক ও নবাবগঞ্জ উপজেলার মোহাজেরপুর গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা মোঃ আব্দুর রাজ্জাক।
এছাড়া জেলার চিরিরবন্দর উপজেলার সাইতারা ইউনিয়নের রাবার ড্যাম, ফতেহজংপুর গ্রামে, কাহারোল উপজেলার জয়নন্দ গ্রামে, ১৩ মাইলে, বিরল উপজেলার পশ্চিম বনগাঁ জামে মসজিদে, বোচাগঞ্জ উপজেলার ও বিরামপুর উপজেলার বিনাইল ইউনিয়নের আয়ড়া দাখিল মাদরাসা মাঠে ও খয়ের বাড়ি দাখিল মাদরাসা মাঠে প্রায় ২০/২৫টি গ্রামের কয়েক'শ মানুষ আগাম ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন।
রাজশাহী
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে রাজশাহী পুঠিয়া উপজেলায় ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় উপজেলার কৃষ্ণপুর মুসলিম জামে মসজিদের ছাদের উপরে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন একটি গ্রামের কিছু মুসল্লি।
জানা গেছে, সকালে মুসল্লিরা এসে কৃষ্ণপুর ফকিরপাড়ার মুসলিম জামে মসজিদের ছাদে যান। সেখানে আগে থেকেই ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছিল। ছাদের মধ্য দিয়ে কালো পর্দা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই ইমামতিতে সামনে পুরুষ এবং পিছনে নারীরা নামাজ আদায় করেছেন। নামাজ শেষে নারীরা বাড়ি ফিরে যান। আর পুরুষরা নামাজ শেষে পশু কোরবানি করেন।
নামাজের ইমামতি করেন মো. আনোয়ার। এ সময় মুসলিম জামে মসজিদের ইমাম আবদুর রহিম গাজীসহ আট জন পুরুষ ও এক শিশুসহ দুইজন নারী নামাজে অংশ নেন। মোট ১০ জন নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে একটি গরু ও একটি ছাগল কোরবানি করা হয়।
লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুরের ১১টি গ্রামে আজ শুক্রবার ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে। জেলার রামগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও, জয়পুরা, বিঘা, হোটাটিয়া, শরশোই, কাঞ্চনপুর; রায়পুর উপজেলার কলাকোপা এবং সদর উপজেলার বশিকপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় সহস্রাধিক মুসল্লি এ দিন ঈদের নামাজ আদায় করেন।
সকাল ৭টায় রামগঞ্জ উপজেলার খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসা, নোয়াগাঁও বাজারের দক্ষিণ-পূর্ব নোয়াগাঁও ঈদগাহ ময়দানসহ একাধিক স্থানে ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসায় প্রধান জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা রুহুল আমিন।
জানা গেছে, মাওলানা ইসহাক (রহ.)-এর অনুসারীরা এসব এলাকায় বসবাস করেন। তারা সৌদি আরবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছর ঈদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করে থাকেন।
ফরিদপুর
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ১০টি গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য আর আধ্যাত্মিকতায় ভরপুর এই ভিন্নধর্মী উদযাপন ঘিরে এসব গ্রামে সৃষ্টি হয়েছে ঈদের এক অনন্য আবহ।
শুক্রবার (৬ জুন) সকাল থেকে উপজেলার শেখর ও রূপাপাত ইউনিয়নের কাঁটাগড়, সহস্রাইল, দরিসহস্রাইল, মাইটকুমড়া, রাখালতলি ও গঙ্গানন্দপুরসহ ১০টি গ্রামের শতশত মানুষ ঈদুল আজহার জামাতে অংশগ্রহণ করেন। ঈদের নামাজ শেষে পশু কোরবানি ও তবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন সবাই।
এই গ্রামের মানুষজন মূলত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মাহমুদাবাদ মির্জাখিল দরবার শরিফের অনুসারী, যারা সৌদি আরবের চাঁদ দেখা ও ধর্মীয় সিদ্ধান্ত অনুসরণ করেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা সৌদি সময় অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করে আসছেন।
এবার সহস্রাইল, মাইটকুমড়া ও রাখালতলি—এই তিনটি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বৃহত্তম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সহস্রাইল উত্তরপাড়া জামে মসজিদে, যেখানে ইমামতি করেন মাওলানা রাকিবুল হাসান রাকিব। সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে তিনটি জামাত হয়, যাতে অংশ নেন স্থানীয়সহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
নওগাঁ
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে নওগাঁর পত্নীতলায় পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (৬ জুন) সকাল ৮টায় উপজেলা সদর নজিপুর পৌর এলাকার কলোনীপাড়ায় প্রায় দেড়শ মুসল্লী ঈদের জামাত আদায় করে। এ সময় নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা কামারুজ্জামান। এতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও ঈদের জামাতে শরিক হন।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদের নামাজ আদায় করা হচ্ছে। তারা গত ২০১৭ সাল থেকে এই নিয়ম অনুসরণ করে আসছেন এবং আগামীতে তা অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় মুসল্লিদের মতে, 'চাঁদ দেখা গেছে, শুনেছি আমরা। স্যাটেলাইটের যুগে আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো। তাই আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করে আসছি।' সেই ধারাবাহিকতায় এবারও সৌদি আরবের নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী শুক্রবার ঈদ উদযাপন করেন তারা।
জামালপুর
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কাজিয়াপাড়া এলাকায় পবিত্র ঈদুল আজহার একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ জুন) সকাল আটটায় উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের লোটাবর কাজিয়াপাড়া এলাকায় এ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদের জামাতের ইমামতি করেন হাফেজ মাওলানা জুবায়ের বিন জাহিদুল ইসলাম। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর ৩৫ গ্রামের প্রায় ৫ হাজার পরিবার আজ শুক্রবার সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদুল আযহা উদযাপন করেছে।
জেলায় ঈদের প্রধান জামায়াত সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরিফে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদুল আজহার নামাজে ইমামতি করেন বদরপুর দরবার শরীফের সেজপীর আরিফ বিল্লাহ রব্বানী।
বদরপুর দরবার শরিফের খাদেম মাওলানা মো. নাজমুল হোসেন বলেন, ‘সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ১৯২৮ সাল থেকে এই অঞ্চলের মানুষ একদিন আগে রোজা ও ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা পালন করে থাকেন। সেই ধারাবাহিকতায় জেলার ৩৫টি গ্রামে আজ কোরবানি পালন করছেন’।
এ বছর ঈদ উদযাপনকারী গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে,পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর ও ছোট বিঘাই, গলাচিপা উপজেলার সেনের হাওলা, পশুরবুনিয়া, নিজ হাওলা ও কানকুনি পাড়া, বাউফল উপজেলার মদনপুরা, শাপলাখালী, রাজনগর, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, সুরদী, চন্দ্রপাড়া, দ্বি-পাশা, কনকদিয়া সাবুপুরা, বামনিকাঠী, বানাজোড়া ও আমিরাবাদ এবং কলাপাড়া উপজেলার দক্ষিণ দেবপুর, পাটুয়া, মরিচবুনিয়া, নাইয়া পট্টি, নিশানবাড়িয়া, শাফাখালী, তেগাছিয়া, ছোনখোলা ও বাদুরতলী গ্রামের এসব পরিবার আগাম ঈদুল আযহা উদযাপন করে।
বরিশাল অফিস
বরিশাল নগরীসহ জেলার পাঁচ উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদ উল আজহা উদযাপন করছে। দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে আগামীকাল শনিবার ঈদ উৎসব পালনের ঘোষণা দেওয়া হলেও এসব গ্রামে একদিন আগে আজ শুক্রবার ঈদ উদযাপিত হচ্ছ। এরা চট্টগ্রামের চন্দনাইশ কাঞ্চন নগর পশ্চিম এলাহাবাদ জাহাগিরিয়া শাহ্সুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের অনুসারী। পৃথিবীর কোথাও চাঁদ দেখা গেলে এবং মক্কা নগরীর সাথে তাল মিলিয়ে এরা ঈদ উদযাপন করে আসছেন। বরিশাল বিভাগে এদের ৭৫টি মসজিদ রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে জেলার প্রায় অর্ধশত মসজিদে শুক্রবার সকালে জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা পশু কোরবানি দেন। বরিশাল নগরীর সাগরদীর তাজকাঠী মিয়াবাড়ী এলাকার জাহাগীরিয়া শাহ্সুফি মমতাজিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখানকার নামাজে কয়েকশ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন। বরিশাল নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হরিনাফুলিয়ার চৌধুরীবাড়ি শাহসুফী মমতাজিয়া জামে মসজিদে সহস্রাধিক পরিবার ঈদের নামাজ আদায় করেছে।
বরিশাল নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তাজকাঠীর হাজী বাড়ীর জাহাগিরিয়া শাহসুফি মমতাজিয়া জামে মসজিদ ও এর আশপাশের প্রায় ৫০০ পরিবার রোববার ঈদ পালন করছে। একইভাবে বরিশাল নগরীসহ জেলার প্রায় অর্ধশত মসজিদে চন্দনাইশ দরবারের অনুসারীরা আগাম ঈদ পালন করছে।
এছাড়া বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার খানপুরা, কেদারপুর, মাধবপাশাসহ ৫-৬টি গ্রামের সহস্রাধিক পরিবারে আগাম ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। জেলার মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় এবং বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন, পতাং, লাহারহাট গ্রামে আড়াই ২ হাজার অনুসারী রয়েছেন।
চট্টগ্রাম
দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, আনোয়ারাসহ ৬০গ্রামের মানুষ আজ পবিত্র ঈদু উল আযহা'র নামাজ আদায় ও গবাদি পশু কোরবানি দিয়েছেন। মুলত তারা চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ ২শো বছর ধরে রুইয়াতিল হেলাল বিষয়ক ফতোয়ার ভিত্তিতে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আযহা এবং চন্দ্রোদয় নির্ভর ইসলামী সব ইবাদত ও অনুশাসন পালন করে আসছেন সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা।
শুক্রবার সকাল সাতটায় চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর জাঁহাগিরিয়া শাহ সুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফ ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবার শরীফের পীর সাহেব হযরত মাওলানা শাহ সূফি মুহাম্মদ আলী শাহ।
ভোলা
বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউপিতে ঈদুল আযহা উদযাপন করেছে সুরেশ্বরী দরবার শরীফ ও সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফের প্রায় ৩ হাজার মানুষ।
শুক্রবার ৬ জুন সকাল ৯:৩০ মিনিটে উপজেলার বগী ইউনিয়নের পঞ্চায়েত বাড়ি, আমিন মিয়া চৌকিদার বাড়ির মসজিদ ও একই ইউনিয়নের মজনু মিয়ার বাড়ির দরজায় সুরেশ্বরী দরবার শরীফ ও সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফ অনুসারীরা পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো: মহিন জানান, পূর্বপুরুষদের বংশ পরম্পরায় প্রায় শত বছর ধরে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করেন তারা। নামাজ শেষে গরু কোরবানি দিয়েছেন।
জামালপুর
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে জামালপুরের ২০ গ্রামে ঈদুল আজহা পালন করা হচ্ছে।
আজ শুক্রবার জামালপুর জেলার ইসলামপুর, সরিষাবাড়ী ও মাদারগঞ্জ উপজেলার ২০টি গ্রামের দুই হাজারেরও বেশি মুসলমান পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করছেন। সৌদির সঙ্গে মিল রেখে তারা ঈদ উদযাপনের সাথে পশুও কোরবানি করেছেন।
মুসল্লিরা ঈদুল আজহারের নামাজ শেষে জুমা'আর নামাজও আদায় করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের পশ্চিম মন্ডলপাড়া, উত্তর সাপধরী, দক্ষিণ সাপধরী, নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম নোয়ারপাড়া, রামভদ্রা, রায়েরপাড়া এবং সরিষাবাড়ী উপজেলার সাঞ্চারপাড়, পাখাডুবি, বনগ্রাম, বলারদিয়া, বাউসী, সাতপোয়া, পঞ্চপীর, বালিয়া, হোসনাবাদ, মারপুর, পুঠিয়ারপাড়, বগারপাড়, কামারপাড়া এবং মাদারগঞ্জের লোটাবর কাজিয়াবাড়ী এই ২০টি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে।
তাছাড়া সরিষাবাড়ী উপজেলার বাউসী ইউনিয়নের বাসিন্দা সাইদুজ্জামান গোলাপ বলেন, 'আমাদের বাপ-দাদারা অনেক আগে থেকেই সৌদির সঙ্গে মিল রেখে তারাবি, রোজা, ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহা পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা সৌদির সঙ্গে মিল রেখে প্রতিবছর ঈদ উদযাপন করে আসছি।'
কিশোরগঞ্জ
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে শতাধিক পরিবারের ঈদ-উল-আযহা উদযাপিত হয়েছে। কটিয়াদী উপজেলার বাহেরচর গ্রামে বাহেরচর জ্যামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৯টায় উক্ত জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারি ভাবে ঈদ-উল-আযহা আগামীকাল শনিবার উদযাপনের ঘোষণা থাকলেও কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের এসব গ্রামের শতাধিক পরিবার এক দিন আগে আজ শুক্রবার ৬ জুন সৌদির সাথে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হয়।
জানা যায়, তারা চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চন নগর পশ্চিম এলাহাবাদ জাহাগিরিয়া শাহ্ সুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের অনুসারী। তারা শত বছরের ও বেশি সময় ধরে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখার সঙ্গে মিল রেখে এবং সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করে আসছেন।
এছাড়াও কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর, পাকুন্দিয়া, কটিয়াদী ও বাজিতপুরে কয়েকটি এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন এবং কোরবানির পশু জবাই দিয়ে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। কুলিয়ারচর উপজেলাসহ কিশোরগঞ্জে, চন্দনাইশ দরবার শরীফের আনুমানিক ২ হাজার অনুসারী আজ শুক্রবার ঈদ উদযাপন করেছেন।
গাইবান্ধা
গাইবান্ধার দু'টি গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপন হয়েছে।
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও সাদুল্যাপুর উপজেলার দু’টি গ্রামে পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বুজরুক জামালপুর (ফারাজিপাড়া গ্রামের) পূর্বপাড়া জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ইমামতি করেন মাওলানা সাইফুল ইসলাম।
পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের তালুক ঘোড়াবান্দা গ্রামের মধ্যপাড়ায় ঈদের নামাজ আদায় করেছেন ওই এলাকার মুসল্লিরা।
এমএস/ আল আমিন
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

