দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের অনুসন্ধানে আ.ক.ম বাহাউদ্দিন (বাহার)-এর পুরো পরিবারের মোট ৭৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ ও ৩০১ কোটি ২৭ লাখ টাকার বেশি ব্যাংকে অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অবৈধ সম্পদের মধ্যে দুই মেয়ে আয়মান বাহারের নামে ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকার বেশি ও আজিজা বাহারের নামের ৬৫ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়ায় তাদের নামে সম্পদের হিসাব চাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সোমবার মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কুমিল্লার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিজের ক্ষমতার অপপ্যবহারপূর্বক ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৬৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকার বেশি সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন এবং তার ২৯টি ব্যাংক হিসাবে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ২৫৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বেশি অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। ওই অর্থ জ্ঞাতসারে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তর করায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দ্বিতীয় মামলায় কুমিল্লার সাবেক মেয়র তাহসীন বাহারকে আসামি করা হয়েছে।
তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের অসঙ্গতিপূর্ণ ৩ কোটি ৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৭০ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। আর তার ১৬টি ব্যাংক হিসাবে ৪২ কোটি ৫৮ লাখ ৭৩ হাজার ১৯৩ টাকা লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তৃতীয় মামলায় আসামি হয়েছেন সাবেক এমপি বাহাউদ্দীন বাহার ও তার স্ত্রী মেহেরুন্নেসা। একজন গৃহিণী হয়ে তার স্বামীর অবৈধ সম্পদ বৈধ করার চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর সাবেক সদস্য আ.ক.ম বাহাউদ্দিন (বাহার), তার স্ত্রী মেহেরুন্নেছা, কন্যা কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসীন বাহার সূচনা ও আয়মান বাহারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেনের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানান। এদিন দুদকের পক্ষে কমিশনের উপপরিচালক রেজাউল করিম তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, আ.ক.ম. বাহাউদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতার অপব্যবহারপূর্বক নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং ঢাকার উত্তরায় ফ্ল্যাট, কুমিল্লার হাউজিং এস্টেটে একাধিক প্লট, মার্কেটসহ আরও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কাজ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা একান্ত প্রয়োজন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

