বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন শুরু হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রবেশ করেন।
এবার সম্মেলনে উঠছে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ৪৯৮টি প্রস্তাব। এ বছর সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৪৪টি প্রস্তাব এসেছে। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন।
গতকাল শনিবার সচিবালয়ে ‘জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২’ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হুমায়ুন কবির এসব তথ্য জানান। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত সচিব বলেন, এবারের ডিসি সম্মেলন উপলক্ষে আটজন বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার ডিসিদের কাছ থেকে ১৭২৯টি প্রস্তাব পেয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এর মধ্যে কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ৪৯৮টি প্রস্তাব।
প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলোতে জনসেবা ও স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি, জনদুর্ভোগ কমানো, রাস্তাঘাট ও ব্রিজ নির্মাণ, পর্যটনের বিকাশ, আইনকানুন বা বিধিমালা সংশোধন, জনস্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব এসেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সম্পর্কিত। এ বিভাগের জন্য ৪৪টি প্রস্তাব এসেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ডিসি সম্মেলন চলাকালে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও নির্দেশনা নেবেন এবং মতবিনিময় করবেন। এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের সঙ্গে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে কার্য অধিবেশনে বসবেন।
এবারের সম্মেলনে মোট ৩৪টি কার্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ডিসি সম্মেলনে সারা দেশ থেকে ডিসিরা অংশ নেন। মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম এ সম্মেলন। সম্মেলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের সুযোগ পান ডিসিরা। সম্মেলন শেষ হবে ৬ মে ।
উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে— গাজীপুর জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করে শিল্পকারখানাগুলো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্থানান্তরকরণ, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণ/মেরামতকরণ, জনবল ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহকরণ, রংপুর বিভাগে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতাল চালু করা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ, হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসা, বর্জ্য ও পয়োবর্জ্যের বিজ্ঞানসম্মত পরিশোধনাগার নির্মাণ। এছাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র এবং ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে মিডওয়াইফারি পদ সৃষ্টি ও পদায়নের প্রস্তাব এসেছে।
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষক (আইসিটি), সহকারী শিক্ষক (হিন্দু ধর্ম), সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগার বিজ্ঞান/গ্রন্থাগারিক) পদে শিক্ষক নিয়োগ, বাংলাদেশের সব দরিদ্র-প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর শিক্ষাকে সম্পূর্ণ অবৈতনিক ঘোষণা করা। এছাড়া কওমি মাদরাসা স্থাপনের নীতিমালা প্রণয়ন করে মাদরাসাগুলোকে নীতিমালার আওতাভুক্ত করার প্রস্তাব করেন ডিসিরা।
এছাড়াও ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’ এর সংশোধন, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলায় প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র স্থাপন, পর্যায়ক্রমে প্রতি জেলায় ইনডোর স্টেডিয়াম স্থাপন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্লাইমেট রিসাইলেন্স ফান্ড ও ক্লাইমেট রিসাইলেন্স ক্রাইড ফান্ড গঠন।
বাস্তবায়িত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সরাসরি ক্রয়ের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের সহজশর্তে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মূল্য তালিকা একটি কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ছাত্র-জনতার স্মৃতি রক্ষার্থে সব জেলায় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
চারদিনের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেবেন বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা। প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওতাধীন সংস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনা হবে। প্রথমদিনের অধিবেশন শেষে ডিসিরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
দ্বিতীয় দিনে আগামীকাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ-সম্পর্কিত আলোচনা হবে। এছাড়া এদিন জাতীয় সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন ডিসিরা।
তৃতীয় দিন মঙ্গলবার বাহিনী বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কে আলোচনা হবে। একই দিনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ভবনে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ডিসিরা। এদিন নির্বাচন কমিশনসংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনার কথা রয়েছে।
সম্মেলনের শেষদিনে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা হবে। এদিন রাতে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ডিসিসহ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিনার করবেন।
এমবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

