প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর আমার দেশ ছিঁড়ে ফেলার ভিডিও বার্তার নিন্দা ও প্রতিবাদ এনইসির

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর আমার দেশ ছিঁড়ে ফেলার ভিডিও বার্তার নিন্দা ও প্রতিবাদ এনইসির

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় প্রকাশ্যেই ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলেছেন। বক্তব্যে তিনি ‘আমার দেশ’ পত্রিকা এবং সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারসহ চরম বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন। ৩১ অক্টোবর (শনিবার) ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের জবাবে রাশেদ খাঁন এ ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখান।

বিজ্ঞাপন

রাশেদ খাঁনের এহেন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)। আজ রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে এনইসির সভাপতি শফিক রেহমান ও কোষাধ্যক্ষ শফিকুল আলম এই উদ্বেগ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মতো দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলার দৃশ্য ভিডিও করে প্রচার করার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাতের শামিল। এই আচরণের মাধ্যমে তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মৌলিক নীতিকেই অস্বীকার করেছেন।’

তারা আরো উল্লেখ করেন, ‘আমার দেশ বা অন্য কোনো সংবাদপত্রের খবরে সংক্ষুব্ধ হলে তিনি প্রতিবাদ পাঠাতে পারতেন, প্রেস কাউন্সিলে যেতে পারতেনÑএমনকি আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন। কিন্তু এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ ছাড়া ফেসবুকে ভিডিও প্রচার করে সংবাদপত্র সম্পর্কে তিনি কী বার্তা দিলেন? সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকে এভাবে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা একটি স্পষ্ট উসকানিমূলক আচরণ। একই সঙ্গে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ও আম-জনতা দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান ‘আমার দেশ’-এর একটি পুরোনো খবরকে কেন্দ্র করে সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে আইনের আওতায় আনার যে দাবি জানিয়েছেন, তা শুধু উসকানিমূলকই নয়; বরং সম্পাদককে সরাসরি হুমকি প্রদানের শামিল।

এনইসি নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা, আগুন দেওয়া এবং পত্রিকা অফিসে হামলার মতো ঘটনা ঘটিয়েছিল। অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বিষয়, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরাও প্রায় একই ধরনের আচরণ করছেন।

বিবৃতিতে নেতারা এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার জোর আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন বলেন, সংবাদপত্রের ওপর আক্রমণ, সম্পাদকদের হুমকি দেওয়া এবং বিদ্বেষ ছড়ানোর মাধ্যমে দেশে মূলত গণমাধ্যমের স্বাধীনতাই সংকুচিত করা হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন