আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ভিডিও বার্তায় যা জানাল ইনকিলাব মঞ্চ

স্টাফ রিপোর্টার

ভিডিও বার্তায় যা জানাল ইনকিলাব মঞ্চ
ছবি: সংগৃহীত

শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবির আন্দোলন চলাকালে শুক্রবার ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। এ সময় সংগঠনটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে এক ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। সেই ভিডিওতে শুক্রবারের ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন সংগঠনের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। তার সঙ্গে ছিলেন ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা ও রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার।

বিজ্ঞাপন

ভিডিওতে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, গতকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে আমরা শহীদ ওসমান হাদির হত্যার সুষ্ঠ তদন্তের জন্য ড. ইউনূসকে জাতিসংঘে একটি চিঠি পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে তার বাসভবনের সম্মুখে অবস্থান করছিলাম। আমরা গুটিকয়েক মানুষ সেখানে ছিলাম। গতকাল বিকেল ৪টা থেকে আজকের এই সময় পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রী, তার সন্তান এবং আমরা—পুরোটা সময় ধরে কিভাবে শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের এই দাবিটা আদায় করা যায়, সেটা নিয়ে আমরা আমাদের মতো করে এগুচ্ছিলাম। আমাদের সাথে সরকার যোগাযোগ করতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে নাই। আট ঘণ্টা শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রী যমুনার সামনে ছিলেন। যমুনা থেকে একজন পিয়ন বের হয়ে তাকে সম্মান জানানোর প্রয়োজন বোধ করেন নাই। আজ জুমার নামাজের পর আবার যমুনা অভিমুখে রওনা দেন শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রী। প্রায় কাছাকাছি চলে আসার পর আমরা হাদি ভাইয়ের স্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য তার সাথে আমাদের কিছু ভাই-বোনকে ভেতরে পাঠানোর চেষ্টা করেছিলাম। ভেতরে আমাদের ইনকিলাব মঞ্চের কিছু সদস্য ছিল, যাদেরকে ভেতর থেকে আবার বাইরে আসতে দেওয়া হচ্ছিল না।

জাবের আরো বলেন, আমরা জুমা, শান্তা ও জুবায়েরকে ভেতরে পাঠিয়েছিলাম, যাতে ওরা গিয়ে দেখে আসে এবং তাদেরকে সঙ্গে করে নিয়ে আসে। প্রথম অবস্থায় পুলিশ কোনোভাবেই তাদেরকে ভেতরে যেতে দেবে না। পরে আমরা বলেছিলাম, এক মিনিটের ব্যাপার এবং এটা তো একদম খুবই সহজ ব্যাপার, এক মিনিটের ব্যাপার। তো ওরা জুমা ও শান্তার গায়ে হাত তুলেছে এবং দেখবেন যে শান্তাকে গলা চেপে ধরেছে এবং জুমার পুরো গালে খামচি দিয়েছে। বুট দিয়ে ওদেরকে আঘাত করেছে। এই যে ফ্যাসিবাদী আমলের যেই পুলিশ, এই যে পুলিশ লীগ—তারা আবার নতুন করে যে মাথাচাড়া দিয়ে যাচ্ছে এবং তাদেরকে যে কেউ কন্ট্রোল করতে পারছে না। আমরা দেখছিলাম যখন আমাদের ওপরে হামলা হয়েছে, তখন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা চেষ্টা করছিলেন যাতে আমাদের ওপর হামলাটা না হয়। কিন্তু পরক্ষণেই আমরা দেখতে পেয়েছি যে, তার আদেশ অমান্য করে পেছন থেকে পুলিশের কিছু সদস্য অতর্কিত হামলা করেছে এবং আমাদের ভাইদের রক্তাক্ত করেছে। আমরা ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং যারা এই আক্রমণের সাথে জড়িত রয়েছে তাদেরকে অতি দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানাই।

তিনি বলেন, কারণ বাংলাদেশের জনগণ এই মুহূর্তে প্রচণ্ডভাবে ক্ষেপে রয়েছে। তারা কোনোভাবেই এই ব্যাপারটাকে মেনে নিতে পারছে না। যার কারণে আমরা বলব—বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনগণকে শান্ত রাখার জন্য হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এবং যমুনায় যেসব পুলিশ সদস্য দায়িত্বে ছিলেন, আপনাদের অতি দ্রুত তাদেরকে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা করেন। তারা যে কাজটা করেছে সেটা হচ্ছে—অধিকাংশ পুলিশ সদস্যের কোনো নেমপ্লেট ছিল না, তারা নেমপ্লেট খুলে ফেলেছে এবং প্রত্যেকে মাস্ক পডরা ছিল। এই যে মাস্ক পরে, নেমপ্লেট খুলে এবং হেলমেট পড়ে এই হামলাগুলো তো আমরা দেখেছি ফ্যাসিবাদী হাসিনার আমলে। তাহলে কি এখন যমুনা পাহারা দিচ্ছে বা যমুনায় বসে আছে হাসিনার সেই ফ্যাসিবাদ আমলের পুলিশ লীগ?

তিনি আরো বলেন, সেই সাথে এসএসএফ আজকে প্রচণ্ড রকমের দুর্ব্যবহার করেছে আমাদের সাথে। আমাদের জুবায়েরকে রাস্তায় ফেলে মেরেছে এবং মাথায় আঘাত করেছে। আমাদের ইনকিলাব মঞ্চের এমন কোনো কর্মী নাই যে আজকে এই হামলায় আহত হয় নাই। তো এখন আমরা এই প্রশাসনের কাছে জানতে চাই— আমরা তো সুনির্দিষ্ট একটা দাবি নিয়ে ওখানে গিয়েছিলাম যে, জাতিসংঘের অধীনে যাতে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচারটা করা হয় তদন্তটা নিশ্চিত করা হয়। তাহলে কারা শহীদ ওসমান হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের অধীনে দিতে চায় না, যা আজকে স্পষ্ট হয়ে গেছে। আমরা মনে করছি, প্রধান উপদেষ্টার যে উপদেষ্টা পরিষদ রয়েছে; তার একটা অংশ শহীদ ওসমান হাদির খুনের সাথে জড়িত, নয়তো কোনোভাবেই এমন অমানবিকভাবে আক্রমণ করার প্রশ্নই আসে না। যেহেতু এটা শান্তিপূর্ণ অবস্থান ছিল এবং আপনারা দেখবেন যে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে একটা প্রেস রিলিজ দিয়েছে এবং সেখানে বলেছে যে, আমরা নাকি জলকামানের ওপরে ওঠে গিয়েছিলাম। অথচ ছবিতে স্পষ্ট করে দেখা যাচ্ছে যে আমরা উল্টো জনগণকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম। যখন জনগণ দেখেছে যে ভেতরে জুমা এবং শান্তাকে রাস্তায় ফেলে মারা হচ্ছে, তখন জনগণ কোনোভাবেই এটা মেনে নিতে পারে নাই। যার কারণে এখানে ওই উদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর পুরো দায়ভার ওইখানে দায়িত্বরত পুলিশ প্রশাসন এবং সরকারকেই বহন করতে হবে।

জাবেরের ভাষ্য, প্রিয় ভাইয়েরা, আপনাদেরকে স্পষ্ট করে জানাই—সামনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা নির্বাচন রয়েছে ১২ তারিখ। এখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বসহ বাংলাদেশের নিরাপত্তাজনিত বেশ কিছু বিষয় জড়িত রয়েছে; যার কারণে অবশ্যই ১২ তারিখে নির্বাচন হতে হবে এবং যারা ১২ তারিখে নির্বাচন বানচাল করে দেয়ার জন্য আমাদের ওপরে আক্রমণ করেছে, তাদের এই নীলনকশাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনগণের অধিকার আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রিয় ভাইয়েরা, দেশের জনগণ প্রচণ্ড শান্তিপ্রিয় এবং তারা সবসময় সরকারকে সহযোগিতা করে আসছে। কিন্তু সরকার সেই জনগণের ওপরে আজকে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। এখনো তারা বিভিন্ন জায়গায় যেমন শাহবাগে এখনো সম্ভবত আক্রমণ চলছে। একটু আগেও আমরা এই লাইভ শুরু করার আগে দেখছিলাম যে, শাহবাগে আক্রমণের তো ঘটনা ঘটছে। শতাধিক মানুষ শাহবাগে আহত হয়েছে পুলিশের ন্যক্কারজনক হামলায়। পুলিশ বলছে যে, ‘আয় হাদির লাশ নিয়া যা’। সে যদি আওয়ামী লীগ না হয়, সে যদি সত্যিকার অর্থেই কোনো পুলিশ সদস্য হয়ে থাকে, তাহলে তার এই ধরনের কথা বলার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমরা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছি যে, বর্তমান পুলিশ প্রশাসনে যে আওয়ামী লীগ গোষ্ঠী এখন পর্যন্ত রয়ে গেছে, তাদেরকে ছাটাই না করায় এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর দায়ভার এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই নিতে হবে এবং আমরা আশঙ্কা করছি যে, যমুনার ভেতরে হয়তো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেফ না; কারণ যারা আমাদের ওপর যেভাবে আক্রমণ করেছে, তারা যেকোনো মুহূর্তে যমুনায় ড. ইউনূসের ওপরে আক্রমণ করতে পারে। এই ধরনের একটা আমরা আশঙ্কা বোধ করছি। কারণ তাদের আক্রমণের সাথে হাসিনার পুলিশ লীগের আক্রমণ মিলে যাচ্ছে।

ইনকিলাব মঞ্চের এই নেতার ভাষ্য, সেই সাথে আমরা এটাও আপনাদের বলতে চাই যে, আপনারা আমাদের অবস্থা দেখছেন। তারপরও আমাদের শান্তিপূর্ণভাবে সকল অবস্থার মোকাবেলা করতে হবে। আমরা চাই যাতে বাংলাদেশে কোনো উদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হোক। মূলত আজকের আক্রমণটা হচ্ছে নির্বাচনকে বানচাল করে দেয়ার জন্য। সুতরাং, এই নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে এবং সেটা ১২ তারিখেই হতে হবে এবং যারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়, তাদেরকে আমাদের রুখে দিতে হবে। আমরা কোনোভাবেই এই নির্বাচনকে বানচাল করতে দেব না, কারণ বাংলাদেশের জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, প্রিয় ভাইয়েরা সেই সাথে আমরা আপনাদের স্পষ্ট করে যে জিনিসটা জানাতে চাই সেটা হচ্ছে—শহীদ ওসমান হাদির হত্যার যে তদন্ত সেটা জাতিসংঘের অধীনেই হতে হবে। আমাদের এখানে আমরা তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছিল যে, জাতিসংঘের অধীনে এটার তদন্ত হবে কিন্তু তারা কোনো ধরনের সময়সীমা বেঁধে দেয় নাই। তারা ইতিপূর্বেও আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে তারা ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার করবে কিন্তু তারা সেই বিচার করতে পারে নাই। যার কারণে আমরা শুধু কথায় আশ্বস্ত না হয়ে তাদের কাছে একটা দাবি করেছিলাম যে, আপনি কবে নাগাদ এই কাজটুকু বাস্তবায়ন করবেন; এই চিঠিটা ইস্যু করবেনএবং আমাদেরকে জানান। এখন রাষ্ট্রের কাছে যদি আমাদের এতটুকু দাবি জানানোর অধিকার না থাকে তাহলে তো বাংলাদেশ বলে কোনো রাষ্ট্র এই মুহূর্তে সাস্টেইন করার কথা না। এখন তো এই রাষ্ট্র তাহলে অন্য দেশের প্রক্সি দিচ্ছে কোনো না কোনভাবে।

জাবের বলেন, ভাইয়েরা, আপনাদের স্পষ্ট করে বলি, শহীদ ওসমান হাদির হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের অধীনেই হতে হবে এবং ৮ তারিখ অবশ্যই এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জাতিসংঘের কাছে চিঠি পাঠাতে হবে। প্রিয় ভাইয়েরা, এক্ষেত্রে আমাদের কিছু দাবি রয়েছে, চিঠি শুধু প্রেরণ করলেই হবে না চিঠির ভিতরে নিম্নলিখিত আমরা যে বিষয়গুলো বলবার চেষ্টা করছি সেগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

১. সরকারকে ইউএনও ও এসএইচআরকে অনুরোধ করতে হবে যেন তারা শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং ইনভেস্টিগেশন পরিচালনা করে।

২. এই তদন্তের স্পষ্ট কার্যপরিধি থাকবে যাতে ঘটনার সত্যতা নির্ধারণ, দায়ী ব্যক্তি ও তাদের সহায়ক নেটওয়ার্ক শনাক্তকরণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করে করণীয় সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

৩. সরকারকে অনুরোধ করতে হবে যেন তদন্তে শুধু সরাসরি হামলাকারীদের নয় বরং আড়ালে থাকা পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র, জড়িত থাকা বা সহযোগিতা, সহায়তা প্রদান, কিংবা আশ্রয়-প্রশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

মূল কথা হচ্ছে খুন যারা করেছে, খুনের পেছনে যারা পরিকল্পনা করেছে, এখন পর্যন্ত খুনিদেরকে যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে রাখছে; তাদেরকেও এই তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করে নিয়ে আসতে হবে। সরকারকে এক্ষেত্রে পূর্ণ সহযোগিতার নিশ্চয়তা দিতে হবে। এতে প্রাসঙ্গিক প্রমাণ ও স্থানে প্রবেশাধিকার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বা অরাষ্ট্রীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপ না থাকার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। কিছু অভিযুক্ত সন্দেহভাজন বিদেশে পালিয়ে থাকতে পারে, এমন প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারকে ওএসসি এইচআরের সহায়তা চাইতে হবে, যাতে স্ট্রাকচারড ক্রস বর্ডার কো-অপারেশন নিশ্চিত হয়। এর মধ্যে লিগাল অ্যাসিস্টেন্স ও ইনফরমেশন শেয়ারিং অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে দায়ীরা জবাবদিহি এড়িয়ে যেতে না পারে। মূল কথা হচ্ছে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার তদন্ত জাতিসংঘের অধীনেই হতে হবে এবং এই তদন্ত কাজ যাতে কোনো বাধা না আসে, তা রাষ্ট্রপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে। এর বাইরে আমাদের কাছে কোনো সেকেন্ড অপশন নাই। আজ আমাদেরকে গুলি করেছেন, কাল প্রয়োজনে আমাদের মেরে ফেলেন কিন্তু শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এই বাংলার জমিনে হতেই হবে। এর বাইরে কোনো সরকারের সেকেন্ড কোনো অপশন নেয়ার সুযোগ নাই।

জাবের আরো বলেন, আজকে আমাদের ওপর যে ন্যক্কারজনক হামলা হয়েছে, এই হামলার পেছনে কারা রয়েছে, কারা আমাদের উপরে অতিউৎসাহী হয়ে আক্রমণ করেছে এবং আমাদের ভাই-বোনদেরকে মানে একটা মানুষকে আসলে কতটা বাড়ি দেয়া যায় লাঠি দিয়ে; আমরা এটা প্রশাসনের কাছে জানতে চাই। একজন মানুষকে আমি ভিডিওতে দেখেছি, ৩০ থেকে ৩২ টা বাড়ি দিয়েছে যতক্ষণ পর্যন্ত সে ওইখান থেকে নিরাপদ দূরত্বে না যেতে পারছে। ততক্ষণ পর্যন্ত একজনের পরে আরেকজন তাকে আঘাত করছিল। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে যে এই প্রশাসন এখন আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কথায় চলে না। এই প্রশাসনকে কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে। সে নিয়ন্ত্রক কারা, সেটা বাংলাদেশের জনগণের কাছে সরকারকে জানাতে হবে; নয়তো এই সরকারের অবশ্যই দায় থেকে যাবে যে কারা জুলাই জনতার ওপর এই আক্রমণটা করল। তারা শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার করতে পারে নাই। আমরা ইতিমধ্যেই দেখতে পেয়েছি যে, রাজনৈতিক দলগুলো থেকে এই আক্রমণের ঘটনার ব্যাপারে প্রচণ্ড উল্লাস প্রকাশ করা হচ্ছে।

তিনি বলেছেন, আমরা আপনাদের স্পষ্ট করে জানাই, ১২ তারিখ ভোটের মধ্য দিয়ে তাদেরকে আপনাদের একটা স্পষ্ট বার্তা জানান দেয়ার সুযোগ রয়েছে। আপনারা ১২ তারিখ তাদেরকে ভোটে পরাজিত করে ইনসাফ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের একটা রাষ্ট্র গড়ে তুলবেন—এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা এবং গণভোটে অবশ্যই আপনারা ‘হ্যাঁ’ দেবেন, কারণ জুলাই সনদ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, সীমান্ত, নিরাপত্তা সবকিছু জড়িয়ে আছে। এ কারণে জুলাই গণভোটে আপনাদেরকে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে এবং যারা সৎ এবং যোগ্য, তারা যে দলেরই হোক না কেন, তাদেরকে ভোট দিয়ে আপনাদেরকে ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য ক্ষমতায় নিয়ে আসতে হবে।

সাধারণ জনগণের প্রতি জাবের বলেন, আপনারা ৮ তারিখ পর্যন্ত একটু ধৈর্য ধারণ করুন। যেহেতু সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বিবৃতি দেয়া হয়েছে যে, ৮ তারিখে তারা জাতিসংঘের কাছে এই চিঠি পাঠাবে এবং তার আগে অবশ্যই এই চিঠি প্রেরণের আগে এই চিঠিতে তারা কী লিখেছে, সেটা আমাদেরকে দেখাতে হবে। এইটা না দেখিয়ে কোনো ধরনের ছলচাতুরি মার্কার চিঠি প্রেরণ করা যাবে না এবং এটা অবশ্যই আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ইনসাফের লড়াইয়ের জন্য শহীদ ওসমান হাদি শাহাদাত বরণ করেছেন। আমাদেরকেও যদি শাহাদাত বরণ করতে হয়, আপনারা ইনসাফের এই লড়াইকে কোনোভাবেই থামিয়ে দেবেন না। ইনসাফের এই লড়াই আমাদের অবশ্যই চালিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আমার আশপাশের দুইজন প্রচণ্ডভাবে আক্রান্ত হয়েছে। আমি নিজে আক্রান্ত হয়েছি এবং আমাকে এবং প্রত্যেকের মাথা টার্গেট করে এই যে আমার পাশে সালাউদ্দিন আম্মার বসে আছে ওকে মাথা লক্ষ্য করে গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে কিন্তু আল্লাহ ওকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। কারো মুখে সেলাই, কারো হাতে ব্যান্ডেজ, জুমার গালের প্রত্যেকটা জায়গা আছড়ানো মাথায় বাড়ি দিছে শান্তাকে গলা টিপে ধরেছে। এবং ইনকিলাব মঞ্চের যারা ভেতরে আটকা ছিল, শত শত পুলিশ গিয়ে তাদেরকে নির্বিচারে পিটিয়েছে। ফাহিমসহ দুই-তিনজনের হাত ভেঙে গিয়েছে। আমাদের আরেকজন কর্মী, যার অবস্থা খুবই সংকটপন্ন ছিল। তাকে অক্সিজেন দিয়ে তারপর হসপিটালে নিয়ে আসতে হয়েছে এবং তাকে প্রচণ্ডভাবে মাথায়, হাতে, কোমরে সব জায়গায় এত পেটানো হয়েছে যে সে এখন ট্রমাটাইজড।

জাবের বলেন, আমরা জানাতে চাই, এই সরকারকে বলতে চাই, আপনি অতি দ্রুত কারা এই আক্রমণ করেছে তাদেরকে চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করেন। নয়তো যেকোনো পরিস্থিতির জন্য আপনাকে অবশ্যই দায়ী থাকতে হবে। কারণ বাংলাদেশের জনগণ ততক্ষণ পর্যন্তই শান্তিপূর্ণ, যতক্ষণ পর্যন্ত জুলাইয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি না হয়। আপনারা কিন্তু অতি খুব তাড়াতাড়ি একটা জুলাইয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি করে ফেলতেছেন। এখন যদি আপনারা এটাকে কন্ট্রোল করতে না পারেন, তাহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব কিন্তু টিকবে না। প্রধান উপদেষ্টা, আপনি আমেরিকাতে চলে যাবেন, সেটা হবে না। আমাদের কাছে জবাবদিহি করে এরপরে আপনাকে আমেরিকা যেতে হবে। ছাত্র ভাইদের উদ্দেশ্য করে বলি যে, আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং আমাদেরকে এই লড়াই কৌশলের মধ্য দিয়ে আমাদের যাতে মনোবল ভেঙে না যায়, আমাদেরকে সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে। এই লড়াই তো একদিনের লড়াই না। আমাদের আজাদির লড়াই চলছে এবং আজাদির এই লড়াই চলবে। আমাদের এখন পিঠ থেকে গিয়েছে। আমাদের আসলে আর পেছনে যাওয়ার কোনো সুযোগ নাই। এখন থেকে আমাদের সামনেই এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, ‘৮ তারিখ পর্যন্ত যেহেতু সরকার সময় চেয়েছে। আমরা সরকারকে সেই সময়টুকু দিলাম। সে যদি এই সময়টা আগেই ঘোষণা করত, তাহলে তো এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতো না। যার কারণে আমার কাছে মনে হয় যে, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে এর দায়ভার সরকারকেও বহন করতে হবে। বাংলাদেশের জনগণ এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ছেড়ে দিবেন এটা বলে দিলাম। আজকের মতো আমরা সবাই প্রচণ্ড আহত অবস্থায় এখানে বসে রয়েছি। ফাহিমকে দেখেন, পুরো ট্রাউজারটা ওর রক্তে লাল হয়ে আছে। আমার পুরো পাজামার রক্তে লাল হয়ে আছে, ওর পুরো হাত আঙ্গুল ভেঙে গেছে, মুখে সেলাই দেয়া। প্রত্যেককে এমনভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করেছেন। নয়তো তাদের যে ধরনের আজকে আক্রমণের ভূমিকা ছিল তারা আমাদেরকে খুন করার উদ্দেশ্য নিয়ে এই আক্রমণটা করেছে। তো আমরা আমাদের এক ভাইকে হারিয়েছি। এরপর যদি আমরা আমাদের কোনো ভাইকে হারাই, এরপরও নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচন পেছানো যাবে না। নির্বাচনের পরে যেই রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসবে তারা যাতে এই ব্যাপারে সুষ্ঠু পদক্ষেপ নেয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন