প্রবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিষ্টার নাজির আহমদ দাবী করেছেন, রাষ্ট্রের কাজে প্রবাসীদের অন্তর্ভুক্তি করলে বাংলাদেশের ইমেজ বাড়বে। তিনি বলেন, রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসেবে প্রবাসীরা একজন আনঅফিসিয়াল এম্বাসেডরের ভূমিকা পালন করতে পারে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, আদিবাসী ও ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর আদলে সংসদে সংখ্যানুপাতে প্রবাসীদের এমপি হওয়া পথ উন্মুক্ত করা এবং জন্মসূত্রে বাংলাদেশি প্রবাসী বাঙালিদের দ্বৈত নাগরিকত্ব হিসেবে বৈষম্যমূলক সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন হল মিলনায়তনে প্রবাসীদের ভোটের অধিকার ও দেশ পরিচালনায় অংশগ্রহণ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিষ্টার নাজির আহমদ এই দাবি জানানো হয়। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি অনিউল্লাহ নোমানের সঞ্চালনায় যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী পারভেজ হুসাইন উপস্থিত ছিলেন।
প্রবাসীদের ভোটার ও দেশ পরিচালনায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ছয়টি দাবি তুলে লিখিত বক্তব্যে ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ প্রবাসী। অথচ দেশে মাত্র চার লাখ চাকমা সম্প্রদায়ের জন্য প্রতিটি সরকারে প্রতিনিধিত্ব আছে। কিন্তু বিপুল সংখ্যক প্রবাসীদের একজনও প্রতিনিধি নেই সরকারে। তাই অন্তবর্তী সরকারে দুইজন প্রবাসীকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিগত ৫৩ বছর ধরে প্রবাসীরা রেমিটেন্স পাঠিয়ে অর্থনীতিতেন অবদান রাখছে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধাবী প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। উন্নত বিশ্বে বসবাসকারী (বৃটেন, ইউরোপ, আমেরিকা ও অষ্ট্রেলিয়া) অনেক বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিক। জন্মসূত্রে নাগরিকদের (প্রবাসী হলেও) নাগরিকত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। এমনকি ভিনদেশী কাউকে ব্রিটেনে এমপি হওয়ার জন্য বাধা নেই। অথচ জন্মসূত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণকারীদের জন্য জনপ্রতিনিধি হওয়ায় বাধা রয়েছে। তাই বৈষম্যমূলক সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করতে হবে। প্রবাসীদের পাসপোর্ট ঝামেলা এড়াতে পাওয়ার অব এটর্নি সম্পাদনে আইডি হিসেবে বাংলাদেশি পাসপোর্ট অথবা ব্রিটিশ পাসপোর্ট কিংবা এনআইডি কার্ড গ্রহনযোগ্য ভিত্তি ধরে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। প্রবাসে অবস্থানরত দেড় কোটি বাংলাদেশিদের ই-ভোটিং কিংবা সহজপন্থায় ভোট দিতে পারেন সেটা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রবাসীদের ন্যায়-সঙ্গত যৌক্তিক দাবীগুলোকে মূল্যায়ন করা এবং অন্তবর্তী সরকারের গঠিত সংস্কার কমিশনের আদলে প্রবাসীদের অভিযোগ-অনুযোগ নিষ্পত্তির জন্য উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পারভেজ হুসাইন বলেন, প্রবাসীদের পরিবার, ব্যবসা ও বসবাসের স্থান সুরক্ষা নিশ্চিত করা, প্রবাসীদের জন্য সিআইপি কার্ড প্রদান, টিআইএন ও ট্রেড লাইসেন্স সহজে পেতে স্বতন্ত্র ডেস্ক খোলা এবং সড়ক, স্থলবন্দর, নৌবন্দর ও বিমানবন্দরে দেশ অনুযায়ী প্রবাসীদের নামের তালিকা টাঙানো সেবা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান বলেন, যারা রেমিটেন্স পাঠায় তাদের হেয় করা হয়। অথচ দেশ গড়তে তারা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে দেশকে স্বাবলম্বি করতে ভূমিকা রাখছে। তাদের হয়রানি বন্ধ ও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

