সংবাদ সম্মেলনে সুজন

সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের ১০ ঋণগ্রহীতার ৮ জনই বিএনপির

স্টাফ রিপোর্টার

সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের ১০ ঋণগ্রহীতার ৮ জনই বিএনপির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ জন সংসদ সদস্যের (এমপি) মধ্যে ১০ জন ঋণগ্রহীতা, যা মোট নির্বাচিতদের ২০ শতাংশ। তাদের মধ্যে কোটি টাকার বেশি ঋণ ও দায়-দেনা রয়েছে চারজনের। তবে শীর্ষ ১০ ঋণগ্রহীতার আটজনই বিএনপি থেকে নির্বাচিত। বাকি দুজন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সুজন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সুজনের সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার সভাপতিত্ব করেন। তথ্য উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

বিজ্ঞাপন

সুজনের বিশ্লেষণে বলা হয়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীদের মধ্যে মোট ঋণগ্রহীতা ছিলেন ১৩ জন (২৬ শতাংশ)। অর্থাৎ দ্বাদশ জাতীয় সংসদের তুলনায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নির্বাচিতদের মধ্যে ঋণগ্রহীতার হার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এতে বলা হয়, শীর্ষ দশজন ঋণগ্রহীতা হচ্ছেন- বিএনপির সেলিমা রহমান, হেলেন জেরিন খান, শিরিন সুলতানা, নিপুণ রায় চৌধুরী, সাকিলা ফারজানা, সুলতানা আহমেদ, সানজিদা ইসলাম ও ফাহমিদা হক এবং জামায়াতে ইসলামীর মারদিয়া মমতাজ ও সাবিকুন্নাহার।

সুজন জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের শীর্ষ ১০ জন উপার্জনকারীর সবাই বিএনপির। তারা হচ্ছেন- শামীম আরা বেগম স্বপ্না, জহরত আদিব চৌধুরী, সাকিলা ফারজানা, আন্না মিনজ, সুলতানা আহমেদ, সানজিদা ইসলাম, নিপুণ রায় চৌধুরী, বীথিকা বিনতে হোসাইন, হেলেন জেরিন খান ও সেলিমা রহমান। তাদের মধ্যে কোটি টাকার অধিক আয়কারী অর্থাৎ কোটিপতি চারজন হচ্ছেন- বিএনপি থেকে নবনির্বাচিত এমপি শামীম আরা বেগম স্বপ্না (৪ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৫০৬ টাকা), জহরত আদিব চৌধুরী (৩ কোটি ১৭ লাখ ২৮ হাজার ৩৯৩ টাকা), সাকিলা ফারজানা (৩ কোটি ৭১ হাজার ১২৩ টাকা) এবং আন্না মিনজ (১ কোটি ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ২৪৬ টাকা)।

আবার সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে (নির্ভরশীলসহ) বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকা বা তার চেয়ে কম মাত্র ১৬ জনের (২৬ শতাংশ)। আয়ের ঘর পূরণ না করা ৭ জনসহ এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ জন (৪০%)। বছরে ৫ লাখ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকা আয় করেন ১৯ জন (৩৮%), ২৫ লাখ টাকা থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় করেন ৫ জন (১০%), ৫০ লাখ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা আয় করে ২ জন (৪৭%) এবং ১ কোটি টাকার অধিক আয় করেন ৪ জন (৮%)। এ ছাড়া ৫ লাখ টাকা বা তার চেয়ে কম আয়কারী ২০ জনের (আয়ের ঘর পূরণ না করা ৭ জনসহ) মধ্যে ১১ জনই (৫৫%) জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে নির্বাচিত।

বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্বল্প আয়কারীর হার যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, অধিক আয়কারীর হারও তেমনই বৃদ্ধি পেয়েছে।

সুজন জানায়, নারী এমপিদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর)। তাদের মধ্যে ৩০ জন স্নাতকোত্তর, ১৪ জন স্নাতক, দুজন এইচএসসি পাস, একজন এসএসসি ও দুজন স্বশিক্ষিত। এ ছাড়া ১ জন শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য দেননি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সুজনের ঢাকা মহানগর কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ক্যামেলিয়া চৌধুরী এবং সদস্য সজল কোরাইশী।

প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে কোনো কোনো এলাকার প্রতি পক্ষপাতিত্ব এবং কোনো কোনো এলাকা বৈষম্যের শিকার হয়েছে উল্লেখ করে সুজন জানায়, বিএনপি ও ১১ দলীয় জোটের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনগুলো বন্টিত হয়েছে। এ ছাড়া একটি আসন পেয়েছে স্বতন্ত্র জোট। ঢাকা বিভাগে মোট জেলার সংখ্যা ১৩টি হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ১৯ জন। আবার রংপুর বিভাগে জেলার সংখ্যা ৮টি হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন মাত্র ২ জন। সব জেলাকে বিবেচনায় নিলে অন্তত ৫০টি জেলার প্রতিনিধিত্ব থাকতে পারত।

এমপি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন