দেশের মানসিক রোগীর ৯২ শতাংশের বেশি চিকিৎসা সেবাগ্রহণ করে না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে কুমিল্লা-৯ আসনের মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রথমে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাপী অক্ষমতাজনিত রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মানসিক রোগ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ (২০১৮-১৯) অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রায় ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের প্রায় ১২ দশমিক ৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। কিন্তু তাদের মধ্যে ৯২ শতাংশের বেশি ব্যক্তি কোনো ধরনের চিকিৎসা সেবাগ্রহণ করেন না।
বাংলাদেশে বর্তমানে জনসংখ্যার তুলনায় মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ-সুবিধা এখনো পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতি এক লাখ জনগণের বিপরীতে মানসিক স্বাস্থ্যমন্ত্রী রয়েছেন মাত্র ১.১৭ জন এবং সরকারি খাতে নিবন্ধিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা প্রায় ৩৫০ জন।
সংরক্ষিত আসনের সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে অনুমোদিত চিকিৎসকের পদের সংখ্যা ৪১ হাজার ৮০৬ জন। এর মধ্যে শূন্য পদ রয়েছে নয় হাজার ৪০৭টি। অনুমোদিত নার্সের পদ ৪৯ হাজার ৮৭৯টি। নার্সের অনুমোদিত ৪৯ হাজার ৯৮৭টি পদের মধ্যে পূরণকৃত ৪৫ হাজার ৩০২টি শূন্য পদ ৪ হাজার ৫৭৭টি। স্বাস্থ্যকর্মীর শূন্য পদ ১৮ হাজার ৯৪৭টি।
মন্ত্রীর তথ্য মতে, স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসিসটেন্টের (এফডব্লিউএ) অনুমোদিত ২৩ হাজার ৫০০টি পদের মধ্যে কর্মরত ১৫ হাজার ২০৭জন, শূন্যপদ আট হাজার ২৯৩টি; ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার ভিজিটরের (এফডব্লিউভি) অনুমোদিত ছয় হাজার ৩৬১টি পদের মধ্যে কর্মরত তিন হাজার ২০০জন, শূন্যপদ এক হাজার ১৬১টি; কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের (সিইএইচসপি) অনুমোদিত ১৪ হাজার ৪৬০টি পদের মধ্যে কর্মরত ১৩ হাজার ৯০২জন, শূন্যপদ ৫৪০টি; হেলথ অ্যাসিসটেন্টের (এইচএ) অনুমোদিত ২০ হাজার ৯০৯টি পদের মধ্যে কর্মরত ১৩ হাজার ৯৫৬জন, শূন্যপথ ছয় হাজার ৯৫৩টি। অতিদ্রুত এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ প্রদান করা হবে বলে মন্ত্রী জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মু. মিজানুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে সরকার তরুণ সমাজের মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষ করে মানসিক চাপ, হতাশা ও আত্মহত্যা প্রতিরোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরো ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রতি বছর আনুমানিক এক হাজার থেকে এক হাজার ৪০০ জন আত্মহত্যাজনিত কারণে মারা যান, যাদের উল্লেখযোগ্য অংশ তরুণ ও কিশোর-কিশোরী।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

