রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘জুলাই অভ্যুত্থান উদযাপন অনুষ্ঠান’-এর মঞ্চে পাঁচ মিনিটের একটি নিরাপত্তা তল্লাশি চালায় সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে গণভবনের গেটের আদলে নির্মিত মঞ্চটির চারপাশ ঘিরে সেনা সদস্যরা তল্লাশি চালান।
মঞ্চের পেছনের অংশ, প্রবেশপথ এবং আশপাশের এলাকা ঘিরে একাধিকবার তল্লাশি চালান। মঞ্চটিতেও ‘সিকিউরিটি চেক’ করেন। উপস্থিত জনসাধারণ ও আয়োজকদের সঙ্গে শান্তভাবে সহযোগিতামূলক আচরণ করে বাহিনীর সদস্যরা পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুততার সঙ্গে শেষ করেন। এ সময় সংসদ ভবনের দিকে যেন কোন ড্রোন উড়ানো না হয় সেই অনুরোধ করা হয়।
অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক জুলহাস যোবায়ের বলেন, ‘এটি ছিল রুটিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেনাবাহিনী পুরো জায়গাটি একবার স্ক্যান করেছে, যাতে অনুষ্ঠান চলাকালীন কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকে। বিশেষ করে গণভবনের গেটের আদলে তৈরি মঞ্চটি কেন্দ্র করে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল। বিশেষ নিরাপত্তার জন্য সংসদ ভবনের সীমানায় যেন কোনো ড্রোন প্রবেশ না করে সেটির জন্যও অনুরোধ করছি।’
এদিকে, সেনাবাহিনীর এ তল্লাশির সময় আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিও লক্ষ করা গেছে। অনুষ্ঠানস্থলে লাগানো নজরদারি ক্যামেরাগুলোর ফিড নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঞ্চের সামনেই জড়ো হতে থাকা জনসাধারণ শান্তভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। কারও মধ্যে আতঙ্ক না ছড়িয়ে বরং সেনা সদস্যদের প্রতি আস্থার প্রকাশই বেশি দেখা যায়।
উল্লেখ্য, ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ স্মরণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান চলবে দিনব্যাপী। এতে রয়েছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, জুলাই ঘোষণা পত্র পাঠ এবং সন্ধ্যায় বিশেষ ড্রোন-ড্রামা প্রদর্শনী। ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসতে শুরু করেছে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে।
আয়োজকরা আশাবাদী, সামরিক বাহিনীর এ সহযোগিতা এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হবে এবং একটি নতুন ইতিহাস রচনা করবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

