‘লুকানো ক্ষুধা’ মোকাবিলায় যাত্রা শুরু এফএবির

দেশে তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ

দেশে তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ

দেশে অপুষ্টি ও ভিটামিন-খনিজের ঘাটতি মোকাবিলা এবং পুষ্টিবর্ধিত খাবারের প্রাপ্যতা বাড়াতে যাত্রা শুরু করেছে ‘ফোর্টিফিকেশন অ্যালায়েন্স বাংলাদেশ’ (এফএবি)। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এ জোট খাদ্যে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সংযোজনের কার্যক্রম জোরদারে কাজ করবে।

বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ উদ্যোগের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, পুষ্টিবর্ধিত খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী ও খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। পুষ্টিবর্ধিত খাবারের গুণগত মান ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি যেসব জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা বেশি, তাদের কাছে এসব খাবারের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে খাদ্য উৎপাদন ও অপুষ্টি হ্রাসে অগ্রগতি হলেও ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের ঘাটতি—যা ‘লুকানো ক্ষুধা’ নামে পরিচিত—এখনো জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আয়রন, জিংক, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি১২, ফোলেট ও আয়োডিনের অভাবে শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি, শেখার সক্ষমতা ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের স্বাস্থ্য ও কর্মক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সংস্থাটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ২ কোটি ৫৬ লাখ মানুষ পুষ্টিকর ও বৈচিত্র্যময় খাবার কেনার সামর্থ্য রাখেন না। প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। এ ছাড়া ২০২৬ সালে আনুমানিক ১৬ লাখ শিশুর তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) তথ্যেও দেশে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা এবং ১৬ লাখ শিশুর তীব্র অপুষ্টির চিত্র উঠে এসেছে।

বাংলাদেশে লবণে আয়োডিন সংযোজন এবং ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ সংযোজনের কার্যক্রম পুষ্টির ঘাটতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি পুষ্টিবর্ধিত চাল ও গমের আটার ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগও রয়েছে।

এফএবির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন)। জোটটি জাতীয় খাদ্য পুষ্টিবর্ধন কৌশল বাস্তবায়নে সহায়তা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার, নীতিনির্ধারণে তথ্য-উপাত্ত তৈরি, মান নিশ্চিতকরণ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং পুষ্টিবর্ধিত খাবার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে কাজ করবে।

সংশ্লিষ্টদের আশা, এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের প্রাপ্যতা ও গ্রহণ বাড়বে এবং দেশের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা পূরণে কার্যকর অগ্রগতি সম্ভব হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন