অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার এমপিও বাস্তবায়ন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক শূন্য পদে চূড়ান্ত অনুমোদনকৃত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন অবিলম্বে ছাড়ার দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট শুরু।
বৃহস্পতিবার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছে শিক্ষকরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকরা জড়ো হতে থাকেন। পরে তারা সমাবেশে থেকে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণা দেন।
সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা শামসুল হক আনছারী এর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব হাফেজ মুফতী আব্দুল হান্নান হোসেন-এর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মাওলানা শেখ নজরুল ইসলাম মাহবুব, গোলাম আজম, মাওলানা আব্দুর রহমান শাজাহান, রাকিবুল ইসলাম শিক্ষক পরিষদের সভাপতি নুরুননবী, মহাসচিব শামছুলস আলম, শিক্ষক সোসাইটির সভাপতি আলতাফ হোসেন, কাজী নজরুল ইসলাম হিরন, জাহাঙ্গীর আলম বাদশা, এস এম নজরুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুছ ছাত্তার, মাওলানা জুহুরুল আলম, মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা আব্দুছ সাত্তার, জয়নাল আবদীন, নজরুল, মাওলানা নুরুজ্জামান, মাওলানা রায়হান ইসলাম, জেলা উপজেলার দায়িত্বশীলসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা নীতিমালা ২০২৫ এর আলোকে গত ৩ জুলাই থেকে ১০ জুলাই-২০২৫ পর্যন্ত বিধি মোতাবেক এমপিও আবেদন করেন। কিন্তু প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও এ পর্যন্ত একটি মাদ্রাসাও এমপিওভুক্ত করা হয়নি। শূন্য পদে নিয়োগকৃত ও কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন ছাড়করণের চূড়ান্ত অনুমোদন শিক্ষা মন্ত্রণালয় কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষাবিভাগ কর্তৃক থাকার পরেও প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হতে চলছে কিন্তু এ পর্যন্ত মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর একজন শিক্ষকেরও বেতন ছাড় দেয়নি, ফলে ১৬৯০ শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মরত থেকেও তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
শিক্ষক নেতারা বলেন, মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রসারের লক্ষ্যে আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তর অনুমোদনের জন্য ১৯৭৮ অধ্যাদেশ ১৭(২) ধারা জারি করা হয়। সেই মোতাবেক ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৪ সালে তৎকালীন সরকার রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের ৫০০ টাকা ভাতা প্রদান করে।
পরবর্তীতে ২০০১ সালে চার দলীয় ঐক্যজোট সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে সরকারিভাবে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ ও উপবৃত্তি চালু করে। কিন্তু বিগত সরকার ২০১৩ সালে ২৬০১৯টি রেজিস্ট্রেশনকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন অথচ ১টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা জাতীয়করণ কিংবা এমপিওভুক্ত করার কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেন নাই।
বিগত সরকারের জাতীয়করণ কার্যক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহ অন্তর্ভুক্ত হলেও দীর্ঘদিন যাবৎ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা সমূহ অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। ফলে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং শিক্ষার্থীরাও আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

