সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সরকারের দায়িত্ব। ধর্মীয় অধিকার কারও করুণা বা অনুগ্রহের বিষয় নয়; এটি প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
শুক্রবার রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে ধানমন্ডি সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয়া শুভেচ্ছা জানিয়ে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় সবার আগে বাংলাদেশি। ধর্ম, বর্ণ কিংবা গোত্রের ভিত্তিতে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। সকল ধর্মের মানুষের অধিকার শুধু স্বীকার করাই যথেষ্ট নয়, তা বাস্তবে নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক নাগরিক যেন স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারেন, রাষ্ট্রকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ধর্ম মানুষের আধ্যাত্মিক চর্চা ও স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম। ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দল নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবে, তা কাম্য নয়। ধর্মীয় চর্চার পরিবেশ হতে হবে স্বাধীন, নিরাপদ ও সকলের জন্য উন্মুক্ত।
শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া উৎসবকালীন মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখা, সড়কনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং বিদ্যুৎ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এসময় তিনি বলেন, দুর্গাপূজার সময় মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা এবং ঢাকায় প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উৎসবের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, দুর্গাপূজা উদ্যাপনে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ যেন স্বাধীনভাবে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
নিজ নির্বাচনি এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার সকল নাগরিকের ন্যায্য অধিকার রক্ষা করা তার দায়িত্ব। জনগণের ভোট ও আস্থা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ আমানত। কোনো নাগরিকের যৌক্তিক সমস্যা বা অধিকারসংক্রান্ত বিষয় তার নজরে এলে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় এলাকায় একটি স্থায়ী পূজামণ্ডপ নির্মাণের জন্য সরকারি জমি বরাদ্দের দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলে উপযুক্ত সরকারি জমি রয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করে প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। সংশ্লিষ্ট স্থানে সরকারের অন্য কোনো পরিকল্পনা না থাকলে ছোট পরিসরে হলেও স্থায়ী পূজামণ্ডপ নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর অস্থায়ীভাবে পূজামণ্ডপ স্থাপন করতে গিয়ে আয়োজকদের যে ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়, তার একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া প্রয়োজন। ধর্মীয় চর্চার সুবিধার্থে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সবশেষে মন্ত্রী ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিময় বাংলাদেশ গড়তে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


